পাথারকান্দি (অসম) ২৮ অক্টোবর (হি.স.) : আজ শনিবার ধনধাত্রী দেবী লক্ষ্মীপুজো। কোজাগরী মহালক্ষ্মীর আরাধনায় নিমগ্ন হবেন প্রতিটি সনাতনী গৃহস্থ বাড়ির গৃহিণীরা। তাই সকাল থেকে গৃহিণীদের ব্যস্ততার সীমা নেই।
বিত্তবানদের বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীদেবীর ভোগে নিবেদন করা হবে রকমারি সামগ্রী দিয়ে। কিন্তু বাধ সাধছে দরিদ্রদের বেলায়। সাধ থাকলেও তাঁদের সাধ্যে কুল্লোছে না বাজার-হাট করতে। কারণ দুর্গাপুজোর পরই হঠাৎ করে বাজারে জিনিসপত্রের চড়া দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সমাজের গরিব মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা। দুর্গাপুজোর পর এমনিতেই প্রায় সবারই পকেট প্রায় ফাঁকা। তার ওপর প্রত্যেকের বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর ছোট-বড় আয়োজন রয়েছে।
এমতাবস্থায় পাথারকান্দি বাজারে ফলমূল থেকে শাক-সবজির দাম দেখে মাথায় হাত মধ্যবিত্ত-গরিব বাঙালিদের। বাজারে ঢুকলেই পকেট ফাঁকা। শাক-সবজি থেকে ফুল-ফল, প্রতিমা থেকে সাজের নানা উপকরণ। নিজেদের সাধ্যমতো জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সনাতনীরা। কেবল পাথারকান্দি নয়, সীমান্ত জেলা করিমগঞ্জের প্রায় প্রতিটি স্থানেই আজকের দিনে এমনই চিত্র। দাম অত্যধিক মাত্রায় বেড়েছে মাটির প্রতিমারও। সমান তালে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক হারে দাম বেড়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলো, টম্যাটো, আলু, মিষ্টি কুমোড়, চাল কুমোড়, লাউ, পটল, ঝিঙে, কুয়াসের মতো অন্য সবজিরও। প্রায় প্রতিটি সবজি কিলো প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে।
একইভাবে ফলের বাজারে আপেল, নারিকেল, শশা, কমলা, বাতাবি লেবু, আখের ইত্যাদি ফলেরও। জেলার কোথায় কোথায় লক্ষ্মীপুজোর প্রধান উপকরণ সোনালি ধানের শিস বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে। এক জোড়া পদ্মফুলের দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রিয় হচ্ছে। লক্ষ্মীপুজোর বাজারে জোড়া প্রতি নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়।
এদিকে স্থানীয় একাংশ ব্যবসায়ী এ সব খাদ্য সামগ্রীর উৎপাদনের অভাব দেখিয়ে সুযোগ বুঝে ক্রেতাদের পকেট কাটলেও এ ব্যাপারে ভাতঘুমে জেলা প্রশাসন। ফলে স্বাভাবিকভাবে লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষ্যে হঠাৎ করে জিনিসপত্রের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবুও লক্ষ্মীপুজো বলে কথা। ধনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী লক্ষ্মী মায়ের কৃপা না থাকলে যে সাংসারিক জীবন যে অচল হয়ে পড়বে। তাই প্রতি বছরের মতো এ বছরও নানা প্রতিকূলতাকে দুরে ঠেলে ধনদাত্রী মায়ের বন্দনায় মগ্ন সনাতনীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / মনোজিৎ / সমীপ
