কলকাতা, ৩০ আগস্ট (হি. স.) : বাঙালির প্রিয় শারদোৎসবের আগেই মিলল সুখবর। রসনা প্রিয় – ‘মাছে ভাতে বাঙালির পাতে’ শেষ পর্যন্ত পদ্মার ইলিশ মাছ পৌঁছতে চলেছে। এবং তা পুজোর আগেই ভারতে ঢুকছে। প্রায় ৩০০০ মেট্রিক টন পরিমাণ পদ্মার সুস্বাদু ইলিশ মাছ ভারতে ঢুকবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে পুজোয় বাঙালির পাতে পদ্মার ইলিশ পড়বে। যদিও এ নিয়ে অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে ছিল জটিলতা। ধীরে কাটছে সেই সমস্যা। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট প্রতিবেশী বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের ফলে যে রাজনৈতিক অস্থিরতার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, ভারত- বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ঘটে। এর ফলে একাধিক বিষয়ে আমদানি রফতানির সমস্যার সৃষ্টি হয়। কূটনৈতিক স্তরে তা কাটিয়ে উঠতেই সচেষ্ট ভারত ও বাংলাদেশ। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর কেটে যাওয়ার পর এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। এর ফলে চলতি বছরে দুর্গাপূজায় বাংলাদেশ থেকে ৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ মাছ পুজোর আগেই পৌঁছবে। শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপদূতাবাস সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের কাছে এ নিয়ে চিঠিতে অনুরোধ করা হয় এবং তা মঞ্জুর করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেই ইলিশ পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতেই, পুজোর আগেই তিন হাজার মেট্রিক টন ইলিশ কলকাতায় স্থল বন্দর দিয়ে ঢুকবে বলে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।
উপ দূতাবাসের তরফেও আরো জানা গিয়েছে যে, বাংলাদেশ থেকে ৫ হাজার টন ইলিশ আমদানির জন্য সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে পশ্চিমবাংলার – ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ গত আগস্ট মাসেই চিঠি লিখে তা দাবি করে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ – ২০২৪ অর্থবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ – সহ বিভিন্ন ধরনের মাছের রফতানির আর্থিক পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার। ইলিশ মাছ ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে পাবদা, ভেটকি, পুঁটিমাছও আসে। আর এদিক থেকেও সেখানে যায় বিপুল পরিমাণে শুঁটকি, লটে, কাঁচকির পাশাপাশি রুই, কাতলা, ম্যাকারেল ইত্যাদি প্রজাতির মাছ । ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে লেনদেন এর বাণিজ্যিক মূল্য ছিল – ৩ কোটি ৫৫ লক্ষ ডলার মতো। প্রায় ৬৩ হাজার টন মাছ রফতানি করা হয়েছিল বাংলাদেশেই।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত
