অশোক সেনগুপ্ত
কলকাতা, ৩০ ডিসেম্বর (হি.স.): প্রায় ৩০ জন আমলাকে ডিঙিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব করা হল নন্দিনী চক্রবর্তীকে। এতে ক্ষুব্ধ বঞ্ছিত আইএএস আধিকারিকরা। কিন্তু মুখ খুললে লাভ হবে না, উল্টে মুখ্যমন্ত্রীর শাস্তির কোপে পড়তে হতে পারে ভেবে সবারই মুখে কুলুপ।
আমলাদের দায়িত্ববন্টনের ভিত্তিকে বলা হয় ‘ক্যাডার শিডিউল’। এটি তৈরি হয় কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে। ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটি প্রকাশও করেছিল। এক প্রবীন আমলা এই প্রতিবেদককে বলেন, “এর পর থেকে এই তালিকা প্রকাশের কোনও লক্ষণ নেই। এ নিয়ে ভয়ে কেউ কোনও দাবি করেন না। আশায় আশায় থাকেন যদি কোনওভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নেকনজরে পড়া যায়। সেক্ষেত্রে কেবল ভাল পদ নয়, অবসরের পরেও দীর্ঘকাল রাজমর্যাদা পাওয়া যাবে।”
নন্দিনী চক্রবর্তী ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস। পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মর্যাদার আধিকারিক আছেন ১৪ জন।
ক্যাডার শিডিউলে আছে স্বরাষ্ট্রসচিব অবশ্যই হবেন কোনও অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মর্যাদার আধিকারিক। কিন্তু নন্দিনী এখনও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মর্যাদার। সবচেয়ে মজার কথা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজি) যিনি হলেন, অর্থাৎ রাজীবকুমার, তিনি ১৯৮৯ ব্যাচের। নন্দিনী ১৯৯৪ ব্যাচের। কিন্তু প্রথা মেনে ডিজি পাঁচ বছরের জুনিয়র স্বরাষ্ট্রসচিবকে স্যর (এক্ষেত্রে ম্যাডাম) বলতে হবে।
আমলামহলের খবর, ক্যাডার শিডিউলকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে গত ৬-৭ বছর ধরে বেপরোয়া প্রশাসনে রদবদল হচ্ছে। এতে বিভিন্ন সময় বঞ্ছিত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন আইএএস অফিসার। বাম আমলেও যে ক্যাডার শিডিউল পুঙ্খানুপুঙ্খ মানা হয়েছে, তা নয়। তবে, তাতে বিচ্যুতি হলে সেটা খবর হয়েছে। যেমন জ্যোতি বসুর অতি পছন্দের আমলা নারায়ণন কৃষ্ণমূর্তিকে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগের সময় এই আমলা ডিঙোনো নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। খবর প্রকাশিত হওয়ায় লোকে জানতে পারে। এখন তো এ সব জানার উপায় নেই। জানার চেষ্টা বৃথা তাই। আর, অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিকও কম। অনিয়মটাই তাই হয়ে উঠেছে নিয়ম।
মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহধন্য এক আমলার দাবি, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে সর্বত্রই মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দটাই প্রাধান্য পায়। এমন নয় যে অন্য রাজ্যে এরকম হয় না। এর প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের এক আমলা বলেন, “অন্য রাজ্যে এরকম হয় যৎসামান্য। এ রাজ্যের মত অন্য কোন রাজ্যে হয় দূরবীন দিয়ে তা খুঁজতে হবে।”
বাম আমলে আইএএস আধিকারিকদের রাজ্য সংগঠন যথেষ্ঠ শক্তিশালী ছিল। অসীম বর্মণ কলকাতা পুরসভার কমিশনার থাকাকালীন তার সঙ্গে তৎকালীন মেয়র প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় কিছু অনায্য আচরণ করেন বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর অসীমবাবু বিষয়টি আইএএস অ্যাসোসিয়েশনকে জানান। ওই সংগঠন বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্তরে নিয়ে গেলে আলিমুদ্দিন থেকে প্রশান্তবাবুকে সংযত হওয়ার আবেদন করা হয়।
এখন এ সব দিবাস্বপ্নের সামিল। অতি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আইএএস অ্যাসোসিয়েশন পুনর্গঠিত হয়েছে। এর সভাপতি, সহ সভাপতি এবং সম্পাদক হয়েছেন যথাক্রমে সুব্রত গুপ্ত, বরুণ রায় এবং স্মিতা পাণ্ডে। পরের দু’জন অপেক্ষাকৃত জুনিয়র। মুখ খুলবেন না, সেটাই স্বাভাবিক। প্রথমজন অর্থাৎ সভাপতি অনেক সিনিয়র, অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মর্যাদার। নন্দিনীর স্বরাষ্ট্রসচিব হওয়া প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া চাইলে সুব্রতবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, “এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না“।
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
