কলকাতা, ১৪ নভেম্বর (হি.স.): মহানগরীতে প্রকাশিত হল ‘ম্যানেজমেন্ট গুরু’ রাজা ভেঙ্কটেশ্বরের প্রথম বই ‘মেমোরিজ মুভিজ আ্যন্ড ম্যানেজমেন্ট’। বলি সিনেমাও ম্যানেজমেন্টের পাঠ্যক্রম হতে পারে, নিজের বইতে অভিনব ভঙ্গিতে তা তুলে ধরেছেন লেখক। ফলে ‘মেমোরিজ মুভিজ আ্যন্ড ম্যানেজমেন্ট’ হয়ে উঠেছে অভিনব এক গ্রন্থ। ম্যানেজমেন্ট এর পাঠ সিনেমার মাধ্যমে দর্শক সাধারণের কাছে উপস্থাপন করা হচ্ছে অনবরত। এর অন্যতম উদাহরণ – অগ্নিপথ ছবি। নাম ভূমিকায় – অমিতাভ বচ্চন। রাজা ভেঙ্কটেশ্বর, সুপারস্টার অমিতাভের ফ্যান। যে কারণে ছবিটি বক্স অফিসে হিট হওয়ার আগেই এক সপ্তাহের মধ্যেই আটবার তিনি দেখেছেন। ঐ পুস্তকে ২১টি ছবির ২১ টি ডায়লগ তিনি তাঁর প্রথম রচিত পুস্তকে বর্ণনা করেছেন। এই মুহূর্তে একজন সুলেখক। এই পুস্তক প্রকাশ তাঁর প্রথম প্রচেষ্টা এবং সিটি অফ জয় – এই কলকাতা শহরেই । তিনি, একজন আপাদমস্তক প্রযুক্তিবিদ এবং স্বপ্নদর্শী। তাঁরই এক ফাঁকে কলম ধরেছেন ও লিখেছেন পুস্তক – স্মৃতি, চলচ্চিত্র এবং পরিচালনা, – যা তার মনের গভীর প্রতিফলন । বইটি আগাগোড়া – মননশীল। এবং সহজে পড়া যায় এমন নিপুণশৈলীতেই রচিত হয়েছে এই পুস্তকের প্রেক্ষাপট । যদিও এটি একটি সহজ পাঠ্য, এবং সত্যিই উপলব্ধিযোগ্য। যারা মানবিক পদ্ধতিতে নেতৃত্বের ধারণাগুলি প্রয়োগ এবং ব্যাখ্যা করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । উপরন্তু, শিক্ষা হিসাবে নেওয়া ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে বক্তৃতা, একটি সুন্দর রূপক হিসাবে কাজ করে। আদতে তিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। যদিও নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রেই। গত দু দশক ধরে তিনি দূরদর্শী নেতা হিসেবে অনেকটা পথ পরিক্রমা করেন। মানবিকতা রক্ষায়ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন ।
লেখক – রাজা, চারটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় (আই আই টি, ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো, আই ই বিজনেস স্কুল, এবং ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি) – তে অধ্যয়নের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি তৈরি করেছেন। সেই পথেই হেঁটেছেন, তাঁকে আমাজন জঙ্গলের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছিল। কিছুটা হলেও সত্যিই বেশ কিছু সুউচ্চ পর্বত এ যাত্রায় তাঁকে টপকাতে পর্যন্ত হয়েছে। সুদীর্ঘ ঐ যাত্রাপথে সাপের কামড় ও জংলি মাছের অত্যাচার তাঁকে সহ্য করতে হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বর্তমানে থাকেন তিনি এবং প্রায়ই তাঁর নিজের বাড়িতে পোষ্য মুরগির সঙ্গে তাঁর ভাব বিনিময় হয়ে থাকে । এই বইটিতে সারল্যের উদাহরণ ও মূল সুর ধরা পড়েছে । এগুলি সরাসরি হৃদয় থেকেই আসে এবং এতটাই স্পষ্ট যে তিনি চলচ্চিত্র, মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে গুরুতর চিন্তাভাবনাকে কতটা ভালোবাসেন তা উঠে আসে । সুতরাং এই পুস্তক তাঁর কাছে এক জ্বলন্ত নিদর্শন মাত্র।
যেহেতু তিনি এবং দল গঠনমূলকভাবে বিভিন্ন ব্যবস্থাপকীয় সম্ভাবনাকে টেবিলে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, একটি বই লেখার ক্ষেত্রে তার উৎসাহ বিকশিত হয়েছিল। তার উদারতা এবং জ্ঞানের গভীরতা আশ্চর্যজনক এবং প্রেরণাদায়ক হয়েছে। এই সমস্তগুলি বইতে প্রতিফলিত হয়েছে, যা ব্যক্তিগত (আপনি চলচ্চিত্র সম্পর্কে অনেক কিছু শিখবেন!) এবং পেশাদার (আপনার ব্যবসার জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ সে সম্পর্কে আপনি আরও বেশি শিখবেন) উভয় স্তরেই আন্তরিক এবং আকর্ষণীয়।
এদিকে, প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক কৌশল বোঝার ক্ষেত্রে কম সংখ্যক মানুষ তার অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মিল রাখতে পারে। এটি তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং গল্পগুলির সাহায্যে বইটি জুড়ে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ সুরে প্রিয় বলিউড অভিনেতার পরিচয়ের সাথে জড়িত। ম্যানেজমেন্ট গুরু – রাজা ভেঙ্কটেশ্বর হলেন তেমনই এক সেরা ব্যক্তিত্ব। কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা। সেন্ট লরেন্স স্কুলে পড়াশোনা। এরপর আই আই টি’তে উচ্চশিক্ষা। এই মুহূর্তে বলা যেতে পারে, এই বিপর্যয়ের পরিবর্তনগুলি তদন্ত করার জন্য, যে কেউ যতটা সম্ভব প্রস্তুত হোন, এবং তারা যে সুযোগগুলি উপস্থাপন করেন তার সদ্ব্যবহার করুন ৷ এই দ্রুত বিকশিত সময়গুলি বুঝতে আগ্রহী যে কেউ, কীভাবে সেরা’দের সকলে তাদের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে এবং কীভাবে সেরা কিছু ব্যর্থ হয়েছে, তাদের এই বইটি অবশ্যই পড়ে দেখা উচিত। এবং তা খুব সহজ বিষয় ! বিশেষ করে কিছু ব্যক্তিগত উপাখ্যান পছন্দ হবে, যা লেখক হালকা চালে ও বিনয়ী সুরের মাধ্যমে এই পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অতি সহজেই যা অনুমেয় ।
আহভা কমিউনিকেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে, দক্ষিণ কলকাতার ট্রাইব ক্যাফে’তে আলোকিত এক প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব বিপ্লব দাশগুপ্ত সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন। এই অনুষ্ঠানে লেখক রাজা ভেঙ্কটেশ্বর ছাড়াও সাংবাদিক মঞ্জিরা মজুমদার ও লেখক বৈশালী চ্যাটার্জি দত্ত – প্যানেলিস্ট হিসাবে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই পুস্তক রচনার যাত্রা সবে শুরু হয়েছে মাত্র। পাঠক ও দর্শক এবং পুস্তক প্রেমীদের চাহিদা ও পছন্দের ভিত্তিতেই আগামী বছরের মাঝামাঝি আরও দুটি বিষয় নিয়ে পুস্তক প্রকাশের জন্য উপস্থিত সকলকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি । প্রতিদিনের কর্মযজ্ঞে বাঁচার মূল মন্ত্র আনন্দ এবং তা খুঁজে পেতে হলে আড্ডা, হাসি, বন্ধুত্ব – নতুন করে বেঁচে থাকার আসল রসদ।পরবর্তী পর্যায়ে একটি পুস্তক শীঘ্রই আলোর মুখ দেখতে চলেছে। বিষয় হল – হাস্যরসাত্নক।
হিন্দুস্থান সমাচার। রাকেশ।
