উত্তর ২৪ পরগণা, ১৭ ফেব্রুয়ারি : বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর পর এবার আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর সন্দেশখালিগামী মিছিলের পথ আটকালো পুলিশ।
শনিবার এই বাধার মুখে পড়ে নওসাদের নেতৃত্বে প্রতিবাদে বসিরহাটে এসপি অফিসে বিক্ষোভ দেখান আইএসএফ কর্মীরা।
নওসাদ বলেন, পুলিশকে দিয়ে আমাদের আটকানো হচ্ছে। কেন? খানিক থেমে জবাবও দেন নওসাদ নিজেই। তাঁর দাবি, সন্দেশখালিতে বিরোধীরা গেলে নিশ্চিতভাবে আরও কিছু ভয়ঙ্কর তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসবে। ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। তা না হলে এভাবে আটকানো হবে কেন?
একই সঙ্গে আইএসএফ বিধায়কের বক্তব্য, যদি কোনও বিরোধী গিয়ে এলাকার পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তাহলে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নিক। কিন্তু সেটা হওয়ার প্রশ্ন উঠছে না। কারণ, সন্দেশখালির মানুষের ওপর যে অন্যায় হয়েছে, তাতে ওখানকার মানুষ আতঙ্কিত। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই বিরোধীরা যেতে চাইছে।
আইএসএফ এর অভিযোগ, শাসকদল তৃণমূলের নেতাদের ঢোকার ক্ষেত্রে পুলিশ অবশ্য কোনও বাধা দিচ্ছে না। যত বাধা বিরোধীদের গতিবিধির ওপরেই।
বস্তুত, এই একই অভিযোগে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য, আদালত ১৪৪ ধারা বাতিল করার পর ফের পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ অবরুদ্ধ করতে চাইছে। আগামী সোমবার এই আবেদনের শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত সন্দেশখালি। ‘ফেরার’ তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান-সহ তাঁর গোষ্ঠীর অত্যাচারের প্রতিবাদে ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। বিজেপির অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে মেয়েদের তুলে নিয়ে অত্যাচার করা হত। অন্যদিকে বিজেপি-সিপিএমের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রে’র অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাঁদের বক্তব্য, সত্যি যদি এমন কোনও অত্যাচারের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এতদিন কেন চুপ ছিল বিজেপি-সিপিএম?
