কলকাতা, ২৮ জুন (হি.স.): হাওড়া-পুরুলিয়া রেল চালু নিয়ে যাত্রীদের একাংশে প্রবল ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁরা উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ।
সোমবার রাজ্য বিজেপি-র তরফে এক্সবার্তায় জানানো হয়, “স্বপ্নপূরণ রাঢ়বঙ্গবাসীর! নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া, মশাগ্রাম হয়ে হাওড়া অবধি এক্সপ্রেস ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিলো ভারতীয় রেল। ধন্যবাদ মোদীজি।” এই বার্তা এদিন শেয়ার করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিজেপি সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদারও।
“আরও কম রাস্তা, আরও কম সময়, হাওড়া থেকে পুরুলিয়া ট্রেন এবার মসাগ্রাম হয়ে”—
এই শিরোনামে একটি সুপরিচিত বাংলা সংবাদ চ্যানেলে খবরটি প্রচার সয়। এর দু’ঘন্টার মধ্যে ৯০টি প্রতিক্রিয়া এসেছে। প্রায় সব কটিতেই নয়া ট্রেনের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “রাস্তা কম, সময় বেশি, বেকার টাইমে রান, মেমু লোকাল।
কাঠের সিটে এতক্ষণ বসে গেলে পশ্চাৎ দেশের অবস্থা খুবই শোচনীয় হয়ে যাবে।”
সৌরভ পাল লিখেছেন, “সময় কোথায় কম লাগছে, আরও সময় বেশি লাগছে।” প্রতাপ শীল লিখেছেন, “কম দুরন্ত বেশি সময় লাগছে,
শুভজিৎ দেলিখেছেন, “কিছু না জেনে পোস্ট করে দিলেই হলো। কেউ চেপে যাবে না। একে ট্রেন এর সময় বেশি আবার সময়ের ঠিক নেই”।
প্রদ্যোৎ পালুই লিখেছেন, “কোথা থেকে জানলেন আরও কম সময়? বলুন আরও কম রাস্তা আরও বেশি সময়। যাদের অর্থ বাঁচানো মূল লক্ষ্য তাদের জন্য ঠিক আছে এই ট্রেন। কাজের লোকের জন্য, ব্যস্ত মানুষের জন্য এই ট্রেন অপ্রয়োজনীয়। পুরুলিয়া থেকে বাঁকুড়া পর্যন্ত কোন কাজের মানুষ এই ট্রেনে উঠবেন বলে মনে হয় না। বাঁকুড়ার পর থেকে ওই রুটে আর কোন ট্রেন নেই তাই তাদের ক্ষেত্রে ঠিক আছে।” সব্যসাচী দে লিখেছেন, “সময় কম কোথায়?”
নীনা বর্মণ লিখেছেন, “আমরা যারা কর্মসূত্রে পুরুলিয়া থাকি তাদের কোনো সুবিধে নেই। ভোর ৪ টে পুরুলিয়া থেকে ছাড়ছে ট্রেনটি। পুরুলিয়া স্টেশন একদম কাছাকাছি থাকেন যারা তারাও সুবিধে পাবেন না। অন্তত ৪ বা ৫ কিমি দূরে থেকেও স্টেশন যেতে বাইকে অনেক সময় লাগে। আবার হাওড়া থেকে ছেড়ে রাত প্রায় ১২টার সময় ঢুকছে। এটা ট্রেন টাইম। তারপর আদ্রা থেকে বিনা কারণে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ট্রেন ঢুকবে পুরুলিয়ায় মাঝ রাতে। তখন বাকি রাত স্টেশন কাটানো ছাড়া উপায় থাকবে না। শীত কালে পুরুলিয়া ভোর ৪ টে মানে কি দশা অবস্থা হয় সেটা আমরা যারা পুরুলিয়া সুপার ফাস্ট বা ‘ঝুমুর বাস’ ধরতে হয় তারাই জানেন। অতএব এদিক থেকে যারা পুরুলিয়া আসা যাওয়া করি তাদের কোনো সুরহা নেই। বরং লালমাটি এক্সপ্রেস চান্ডিল দিয়ে না ঘুরিয়ে এই রুটে পুনরায় চালু করলে অনেক মানুষ উপকার পেতেন।”
হিমাংশু মাহাতো লিখেছেন, “পুরুলিয়ার লোকের লাভ হবে না।” দেবাশিস মাহাতো লিখেছেন, “স্টেশনে রাত ঘুমাতে হবে যাওয়া/আসা দু দিনে।” শান্তনু মাহাতো লিখেছেন, “বাঁকুড়া মশাগ্রা হাওড়া, বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর,ছাতনা মুকুটমণিপুর (রুপায়নের পথে)। যা দেখছি সবই তো বাঁকুড়ার জন্য।বলি, পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম ভায়া মানবাজার রেল লাইন রূপায়ণ নিয়ে মাননীয় এম.পি.সাহেবের কোন উদ্যোগ আছে কি?
সুব্রত সিং লিখেছেন, “বাসে এর থেকেও কম সময় লাগে।” অসীমকুমার নিয়োগী লিখেছেন, “এটা একটা জুমলা যে ট্রেন চালু হয়েছে। আট ঘন্টা পুরুলিয়া হাওড়া। হাওড়াতে ঢুকতে আরও দেরি করবে। লোক ততক্ষণে শিলিগুড়ি চলে যাবে। হাই টেক রেল মন্ত্রী এর চেয়ে গরুর গাড়ির ট্রেন চালু করতে পারতো?”
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
