কলকাতা, ৫ আগস্ট (হি.স.): “ভাষাতাত্ত্বিকদের জায়গায় রাজনীতিবিদরা বিচারে বসলে বিপদজনক ব্যাপারস্যাপার ঘটবে।” বাংলা-বাংলাদেশি ভাষা বিতর্কে প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করলেন সাহিত্য আকাদেমীর প্রাক্তন আঞ্চলিক সম্পাদক, বিশ্বভারতীর প্রাক্তন আধিকারিক, অন্তত ৪২টি বইয়ের লেখক ডঃ রামকুমার মুখোপাধ্যায়।
শরৎ স্মৃতি সমিতির সভাপতি, ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারপ্রাপ্ত, সাহিত্য আকাদেমী-সহ ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।
‘মোদের গরব মোদের আশা’ শিরোনামে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠক্রমে যুক্ত করেছিলেন আর ঔপনিবেশিক শাসনকালে যখন ইংরেজির প্রবল দাপট তখন ছেলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়িয়েছিলেন। যা সব কথাবার্তা দিল্লি থেকে উড়ে আসছে তাতে শ্যামাপ্রসাদের ডিগ্রিটি না কেড়ে নেওয়া হয়। রবিঠাকুরের নোবেল পদকটির মতো নোবেল পুরস্কারটিও না হাতছাড়া হয়।
উচ্চারণ দিয়ে মানুষের ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত বোঝা যায় কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিকদের জায়গায় রাজনীতিবিদরা বিচারে বসলে বিপদজনক ব্যাপারস্যাপার ঘটবে। আর ভাষা দিয়ে ধর্মকে ধারণ করা ও রাষ্ট্র গড়া আরও গোলমেলে ব্যাপার।
জিন্নার মতো তুখোড় রাজনীতিবিদও উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করে পাক সাম্রাজ্যকে পঁচিশ বছরও টেকাতে পারেননি। আর সংস্কৃত ভাষার কৌলিন্য বজায় রাখতে গিয়ে তথাকথিত উচ্চবর্ণ তো ভাষাটিকেই মেরে ফেলল। কাজেই ভাষা বুনো ঘোড়ার মতো বিষম বস্তু। সামলানো কঠিন। পিঠ থেকে ফেলে দিতে পারে, পিছনের পা দিয়ে পঁচিশ হাত দূরে ছুঁড়েও দিতে পারে। তাই ভাষা নিয়ে দীর্ঘ চর্চা দরকার আর তারপর জ্ঞানগর্ভ মতামত দেওয়া।”
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত
