গুয়াহাটি, ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : অসমিয়া লোকসংস্কৃতির সাধক, গীতিকার, গায়ক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীরেন্দ্ৰনাথ দত্ত আর নেই। আজ সোমবার মহানবমীর দিন সকাল সাতটায় দিশপুর পলিক্লিনিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সংগীতজ্ঞ ড. বীরেন্দ্ৰনাথ দত্ত। বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। রেখে গেছেন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধকে।
আজ সকালে দাবানলের মতো বীরেন্দ্ৰনাথ দত্তের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে গিয়ে জমায়েত হতে থাকেন অসংখ্য গুণমুগ্ধ। পরে হাসপাতাল থেকে প্রয়াতের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শিলপুখুরির চেনিকুটিতে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে। সেখানে তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করতে ভিড় জমান বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নির্দেশে আজ বিকালে সম্পূর্ণ রাজ্য মর্যাদায় ড. বীরেন্দ্ৰনাথ দত্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
১৯৩৫ সালের ১ মার্চ নগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লোকপ্ৰিয় কণ্ঠশিল্পী বীরেন্দ্ৰনাথ দত্ত। বিশিষ্ট লেখক, লোকসংস্কৃতি এবং বেশ কয়েকটি সাহিত্য রচনা করেছেন তিনি। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাকোত্তর বীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৫৭ সালে গুয়াহাটির বি বরুয়া কলেজে লেকচারার হিসাবে তাঁর শিক্ষা তথা কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। পরে তিনি গৌরীপুরের প্রমথেশ বড়ুয়া কলেজ, গোয়ালপাড়া কলেজ ও পাণ্ডু কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকসংস্কৃতির ওপর পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকসংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করে ১৯৯৫ সাল অবসর গ্ৰহণ করেন। এর পরও শিক্ষা জগত তাঁকে ছাড়েনি। তেজপুর কেন্দ্ৰীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরম্পরগত সংস্কৃতি ও কলা বিভাগের প্ৰতিষ্ঠাতা অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করে ২০০০ সালে অবসর গ্ৰহণ করেন বীরেন্দ্রনাথ দত্ত। অসমিয়া এবং ইংরেজি ভাষায় প্রয়াত দত্ত প্রায় ২৩টি বই লেখার পাশাপাশি সম্পাদনা করেছেন।
লোকসংস্কৃতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৯ সালে বীরেন্দ্রনাথ দত্তকে পদ্মশ্ৰী সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
অসমিয়া সাহিত্যে বীরেন্দ্ৰনাথ দত্তের ছিল বিশেষ অবদান। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই যথাক্রমে ‘গোয়ালপড়িয়া লোকগীত সংগ্রহ’ (১৯৭৪), ‘অসমিয়া সংগীতর ঐতিহ্য’ (১৯৭৭), ‘ব্যক্তি-সংস্কৃতি ইত্যাদি’ (১৯৮৫), ‘ভাষা-সাহিত্যর জলঙাইদি’ (১৯৮৮) প্রভৃতি।
এছাড়া অসমের সংগীত জগতেও তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি চিরসবুজ সংগীত আজও সংগীতপ্ৰেমীদের আলোড়িত করে। প্রসঙ্গত, ২০০৩-২০০৪ সালে অসম সাহিত্য সভার সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছিলেন ড. বীরেন্দ্ৰনাথ দত্ত। অসম সাহিত্য সভা প্ৰকাশিত ‘বিশ্বকোষ’র বিশ্ব সাহিত্য’ এবং ‘লোকসাহিত্য’ শীৰ্ষক খণ্ডের প্রধান সম্পাদক ছিল বিশিষ্ট এই সাহিত্যিক।
এছাড়া তিনি তাঁর অবদানের জন্য বিশেষ করে ‘শংকর মাধবর মনীষা আরু অসমর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার’-এর জন্য দ্বাদশ ‘জগদ্ধাত্রী-হরমোহন দাস সাহিত্য পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ / অরবিন্দ
