খড়িবাড়ি, ২৫ অক্টোবর (হি. স.) : জাল জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র জালিয়াতি কাণ্ডে গ্রেফতার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর । অভিযোগের ৮ দিন পর পুলিশের জালে ধরা পড়ল খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর অভিযুক্ত পার্থ সাহা। আজ ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে খড়িবাড়ি পুলিশ।
জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে জানা গিয়েছে, খড়িবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে এ বছরের মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত তৈরি হওয়া ১০১৪টি জন্মমৃত্যু শংসাপত্রের মধ্যে ৮৪৪ টি জাল শংসাপত্র। সিকিম, বিহার সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষ এই হাসপাতাল থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে সরকারিভাবে জাল শংসাপত্র তৈরি করেছে। শংসাপত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খড়িবাড়ি। ১৭ অক্টোবর রাতে খড়িবাড়ি ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শফিউল আলম মল্লিক খড়িবাড়ি থানায় অন্যতম অভিযুক্ত জেলা তৃণমূল নেত্রীর ছেলে অন্যতম অভিযুক্ত পার্থ সাহার নামে অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু অভিযুক্ত পার্থ সাহা নেপালে পালিয়ে যায়। বিএমওএইচের অভিযোগের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া পার্থর একটি মুচলেখার উপর ভিত্তি করে বুধবার রাতে খড়িবাড়ি পুলিশ নকশালবাড়ি বিডিও অফিসের বিএসকে কাৰ্মী নবজিৎ গুহ নিয়োগীকে গ্রেফতার করেছিল। অবশেষে এদিন ভোরে ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পার্থ সাহাকে নেপাল সীমান্তের ডাঙ্গুজোত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পার্থ ও নবজিতের মোবাইল থেকে আর্থিক লেনদেনের হদিস পেয়েছে পুলিশ। পাওয়া গিয়েছে জালিয়াতি কাণ্ডের প্রচুর নথিপত্র। পুলিশ জালিয়াতি কাণ্ডের অভিযুক্ত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পার্থকে আজ শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। ধৃতকে রিমান্ডে নিয়ে চক্রের বাকি পাণ্ডাদের ধরতে চাইছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে দার্জিলিংয়ের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ জানান, এই জালিয়াতি কাণ্ডে আরও বেশ কিছু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখন এসব জানানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি
