দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ২৮ নভেম্বর (হি.স.) : গোসাবায় তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এরা সকলেই এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। মঙ্গলবার তাদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে পুলিশ।
সোমবার রাস্তা সারাইয়ে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে নির্মাণ সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর পরই পুলিশ তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব রাধানগরে তৃণমূলের বুথ সভাপতি মোছাকুলি মোল্লা খুনের ঘটনায় ধৃতদের নাম ফারুক বৈদ্য, রউফ মোল্লা, ইমরান মোল্লা এবং আনার জমাদার। খুনের ঘটনার দলেরই একাংশ জড়িত, তেমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই। ধৃতদেরও প্রাথমিক পরিচয় হিসেবে জানা যাচ্ছে, এলাকার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী তারা। আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বারুইপুর পুলিশ জেলার সুন্দরবন উপকূলীয় থানার পূর্ব রাধানগর এলাকার বাসিন্দা মোছাকুলি মোল্লা। তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন তিনি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, পূর্ব রাধানগর এলাকায় এক কিলোমিটার রাস্তা ঢালাইয়ের কাজ নিয়ে ঠিকাদার সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে বচসা বাঁধে। কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না, এই অভিযোগে কন্ট্রাক্টর তথা প্রতিবেশী বাকিবুর মোল্লার সঙ্গে অশান্তি বেঁধেছিল মোছাকুলির।
এই অশান্তি ক্রমে চরমে ওঠে। অভিযোগ, লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় মোছাকুলিকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় গোসাবা হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনা তদন্ত নেমে ইতিমধ্যেই সুন্দরবন উপকূল থানার পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে ৷ নিহত তৃণমূল নেতার পরিবারের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে খুন হতে হয়েছে মুছাকলি মোল্লাকে ৷ নিহত তৃণমূল নেতার স্ত্রী তানজিলা মোল্লা বলেন, আমার স্বামী তৃণমূল করতেন ৷ আক্রমণকারীরা যুব তৃণমূলের সদস্য ৷ রাস্তা তৈরিতে কম সামগ্রী দেওয়ায় প্রতিবাদ করেছিলেন স্বামী৷ তাই তাঁর মাথায় মুগুর দিয়ে মেরে দেহ জলে ফেলে দিয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে বাকিবুর আর তাঁর দলবল জড়িত আছে৷
বাকিবুর গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ৷ নিহত তৃণমূল নেতার ছেলে মোরসেলিম মোল্লা বলেন, আমার বাবা তৃণমূলের মূল সংগঠনে ছিলেন ৷ আর যাঁরা আমার বাবাকে মেরেছে, তারা যুব তৃণমূল করে ৷ আমার বাবা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ৷ আমার বাবাকে যারা মেরেছে, তারা গোসাবার বিধায়ক সুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ৷ তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরেই আমার বাবাকে খুন হতে হল। এই খুনের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের শাস্তি চাই আমরা ৷
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
