গুয়াহাটি, ২৮ অক্টোবর (হি.স.) : আশ্বিন মাসের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। সে অনুযায়ী আজ শনিবার কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। প্রতি হিন্দুর ঘরে লক্ষ্মীপূজার ব্যাপক আয়োজন। প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে সন্ধ্যারাতে ধনের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর পুজো করলেও রাজ্যের সব লক্ষ্মীমন্দির, সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপগুলোতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা হচ্ছে, সেজন্য চালের গুড়ির আলপনা, আলোকসজ্জায় সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। সর্বত্র কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা সম্পন্ন হচ্ছে পাঁচালী পাঠ করে।
লক্ষ্মীপূজার জন্য গতকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত ছিল মা লক্ষ্মীর মৃন্ময়ী প্রতিমা কেনার জন্য ভক্তের ভিড়। এছাড়া ছিল পূজার সামগ্রী কেনার ধুমও। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে লক্ষ্মী দেবীর আশীর্বাদে অভাব-অনটন, দুঃখ, অশান্তি দূর হয় ও ধন-ঐশ্বর্য, সুখ শান্তিতে ভরে ওঠে ভক্তের জীবন।
গুয়াহাটির বেলতলায় অবস্থিত লক্ষ্মীমন্দিরের পূজা পরিচালন সমিতির উদ্যোগে শনিবার সকালে অসংখ্য নারী-পুরুষ এক শোভাযাত্রা বের করেছেন। শোভাযাত্রা এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক পরিক্রমা করে ফের মন্দিরে আসে। প্রতিবছরই বেলতলা লক্ষ্মীমন্দিরে ভক্তের ঢল নামে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
মহানগরের কাহিলিপাড়ায় অবস্থিত ‘চেনেহ’ বৃদ্ধাবাসের আবাসিকরাও সকালে মন্দিরে এসে লক্ষ্মীদেবীর পুজো করেছেন। অন্যদিকে ভক্তকুলের সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সমিতি। বেলতলা লক্ষ্মীমন্দিরে ভক্তের ঢল নামে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
এদিকে মহানগরের খানামুখের লক্ষ্মীমন্দিরে দুদিনের কার্যসূচি নিয়ে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও আজ বর্ণাঢ্য কার্যক্রমের মাধ্যমে লক্ষ্মীপূজা হচ্ছে। এদিন প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে পূজার শুভারম্ভ করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেমন দিহানাম, কীর্তন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় লক্ষ্মীর প্রতিমা স্থাপন করে পূজার সূচনা হবে। দ্বিতীয় দিন মা লক্ষ্মীর পূজা ও নামকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।
হাজোর মাধবদেব মন্দিরেও লক্ষ্মীপূজার আয়োজন করা হয়। স্থানীয়রা এখানে এসে পূজা-অর্চনা করেন। সমাজে শান্তি ও অশুভ শক্তি নাশ করে শুভ শক্তি–প্রতিষ্ঠার কামনায় মাধবদেব মন্দিরে ধুমধামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে লক্ষ্মীপূজা।
বিটিআর-এর বাকসা জেলার অন্তর্গত ভলুকামুড়িতে আজ থেকে চার দিন ২৭-তম লক্ষ্মী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাকসার ককলাবাড়ি পরিষদীয় নির্বাচন কেন্দ্রের পারিষদ মণ্টু বড়ো আজ লক্ষ্মী পূজার দারোদ্ঘাটন করেছেন। এর পর স্মৃতি তৰ্পণ, বৃক্ষরোপণ প্রভৃতি বিভিন্ন কাৰ্যসূচির শুরু করে লক্ষ্মী পূজা উদযাপন সমিতি। প্ৰতি বছরের মতো এ বারও জাঁকজমকতার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত কহচ্ছে লক্ষ্মী পূজা।
এদিকে তামুলপুরের বতিয়ামারিতে শ্ৰীশ্ৰী লক্ষ্মী পূজার হীরকজয়ন্তী উদযাপন হচ্ছে। তামুলপুর জেলার বতিয়ামারিতে সাত দিনের কার্যসূচির মধ্য দিয়ে ধন ও ঐশ্বৰ্যের অধিষ্ঠাত্ৰী দেবী শ্ৰীশ্ৰী লক্ষ্মী পূজা উদযাপন করছেন আয়োকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ / অরবিন্দ
