নয়ডা:
অঞ্চলজুড়ে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাস্তায় বসবাসকারী গৃহহীন ও বঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নয়ডার জীবন অর্পণ সোশ্যাল সার্ভিস অর্গানাইজেশন ধারাবাহিকভাবে মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থার উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন সেক্টরে গভীর রাতে কম্বল বিতরণ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যাতে কঠোর শীতে কোনো অসহায় মানুষ উন্মুক্ত আকাশের নিচে অরক্ষিত অবস্থায় না থাকে।
এই কম্বল বিতরণ অভিযান Noida–এর সেক্টর ১৫, ১৪, ১৪এ, ১৭–এর পাশাপাশি সেক্টর ২ ও ৩–এ পরিচালিত হয়েছে। ফুটপাথ, রাস্তার ধারে, বাজার এলাকার আশপাশে, ফ্লাইওভারের নিচে এবং বাসস্টপে খোলা জায়গায় রাত কাটানো মানুষদের শনাক্ত করে স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁদের হাতে কম্বল তুলে দেন। পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি দীপাংশু শর্মা, যিনি দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিজে উপস্থিত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন।
দীপাংশু শর্মা জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—অতিরিক্ত শীতের কারণে কোনো অসহায় বা নিঃস্ব মানুষের প্রাণ যেন না যায়। শীতকালে গৃহহীন মানুষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক অনুভূতি থেকে সংস্থা কাজ করে চলেছে। তাঁর কথায়, “এই কর্মসূচির ভাবনা খুবই সরল—শুধু নিজেকে শীত থেকে রক্ষা করতে না পারার কারণে কেউ যেন কষ্ট না পায় বা প্রাণ হারায় না। এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে নেমে কাজ করছি।”

সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, গত এক মাস ধরে এই কম্বল বিতরণ কর্মসূচি নিয়মিতভাবে চলছে। প্রতিদিন গভীর রাতে সদস্যরা নিজেদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রয়োজনীয় মানুষদের খুঁজে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সমাজে যাঁরা প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যান, তাঁদের কাছেই সরাসরি পৌঁছে তৎক্ষণাৎ সহায়তা দেওয়াই সংস্থার অগ্রাধিকার। ফুটপাথ, বাজারসংলগ্ন এলাকা, ফ্লাইওভারের নিচে ও বাসস্টপে ঘুমিয়ে থাকা মানুষদের শনাক্ত করে কম্বল দেওয়া হচ্ছে, যাতে তীব্র শীতে তাঁরা কিছুটা সুরক্ষা পান।
এখন পর্যন্ত জীবন অর্পণ সোশ্যাল সার্ভিস অর্গানাইজেশন ২০০–এর বেশি মানুষকে কম্বল বিতরণ করেছে। উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছেন দিনমজুর শ্রমিক, প্রবীণ নাগরিক এবং আর্থিক সংকট বা আশ্রয়ের অভাবে যাঁদের রাস্তায় রাত কাটাতে হয়। সংস্থা প্রতীকী কর্মসূচির বদলে মাঠপর্যায়ে সরাসরি সহায়তার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে ত্রাণ বাস্তব অর্থে এবং দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয়দের কাছে পৌঁছায়।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, তীব্র শীতের মতো চরম আবহাওয়ায় এ ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম সমাজের দুর্বল অংশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যরাতের পর তাপমাত্রা হঠাৎ অনেকটা নেমে যায়, ফলে রাস্তায় থাকা মানুষদের অসুস্থতা ও হাইপোথার্মিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই কারণে গভীর রাতে কম্বল বিতরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এই অভিযানের মাধ্যমে সংস্থার সদস্যদের নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ব্যক্তিগত দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তাঁরা স্বেচ্ছায় সময় ও সম্পদ ব্যয় করে মানবসেবায় যুক্ত রয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তায় উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো তাঁদের মানবিকতা ও সহমর্মিতার পরিচয় বহন করে।
কম্বল বিতরণ অভিযানে অনমোল সহগল, নিশু উপাধ্যায়, আদর্শ সিং (কুনাল), রাহুল ভারদ্বাজ এবং আরিয়ান শুক্লাসহ সংস্থার একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা প্রয়োজনীয় মানুষদের শনাক্ত করা, কম্বল বিতরণ করা এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলো বোঝার কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
জীবন অর্পণ সোশ্যাল সার্ভিস অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, যতদিন শীতের প্রকোপ থাকবে ততদিন এই শীতকালীন ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সংস্থার মতে, গৃহহীন ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সমস্যার মোকাবিলায় সমষ্টিগত সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্থা শুধু শারীরিক উষ্ণতা নয়, বরং সহানুভূতি, সংহতি ও মানবতার বার্তাও সমাজের কাছে পৌঁছে দিতে চায়।
