নয়ডা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬:
রাজ্য সরকারের নির্ধারিত এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনের প্রেক্ষিতে শিল্প প্রকল্পগুলির অগ্রগতি ও কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের জন্য সরকারি স্তরে নিয়মিত মাসিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে সোমবার নয়ডা কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক কর্তৃপক্ষাধীন এলাকার শিল্প প্লটগুলির বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।
৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে নয়ডা কর্তৃপক্ষের সংরক্ষিত সরকারি নথির ভিত্তিতে শিল্প প্লটগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট তিনটি শিল্প প্লট নথি অনুযায়ী বাতিল অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে বাতিল হওয়া দুইটি শিল্প প্লটের অবিলম্বে দখল গ্রহণ করতে হবে। তবে তৃতীয় বাতিল প্লটটির ক্ষেত্রে আইনি মামলা চলমান থাকায় পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সেটিকে দখল প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।
এই পর্যালোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিল্প জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মূল্যবান সম্পদ যাতে দীর্ঘদিন অচল অবস্থায় পড়ে না থাকে, তা দেখা। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন শিল্পোন্নয়নকে রাজ্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তখন শিল্প প্লটের অকার্যকর বা স্থবির অবস্থান গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক জোর দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত শিল্প প্লট নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে উন্নয়ন করে উৎপাদন বা কার্যক্রম শুরু করতেই হবে। নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘিত হলে প্রচলিত নিয়ম ও আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাতিল হওয়া প্লটগুলির পাশাপাশি, পর্যালোচনায় এমন আরও কিছু শিল্প প্লটের অবস্থাও আলোচনায় আসে যেগুলি নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করা হচ্ছে না। যাচাইয়ে দেখা গেছে, ১১টি শিল্প প্লটে নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হলেও এখনও পর্যন্ত সেখানে শিল্প কার্যক্রম শুরু হয়নি। এই প্লটগুলিকে ‘নির্মিত কিন্তু অকার্যকর’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৩টি শিল্প প্লটে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং নয়টি প্লট সম্পূর্ণভাবে খালি অবস্থায় পড়ে আছে। এই সমস্ত ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপ্তদের দেওয়া অনুমোদিত সময়বর্ধিত মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।
এই ধরনের বিলম্ব এবং নিয়ম লঙ্ঘনকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নির্দেশ দেন, যেন নিয়ম মেনে এই প্লটগুলির বাতিল প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হয়। ডিফল্টারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও অযথা বিলম্ব বরদাস্ত করা হবে না এবং সমস্ত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সময়বদ্ধভাবে সম্পন্ন করতে হবে—এমনই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।
নয়ডা কর্তৃপক্ষ পুনরায় জানিয়েছে যে শিল্প প্লট বরাদ্দের মূল উদ্দেশ্য হল শিল্প কার্যক্রমকে উৎসাহ দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বরাদ্দপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়সীমা মানা না হলে তা শুধু শিল্পোন্নয়নের গতি কমায় না, বরং রাজ্যের বৃহত্তর অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে।
পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন সমস্ত শিল্প প্লটের নথি হালনাগাদ ও নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অবস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন, যাতে এই ধরনের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত করা যায়। একই সঙ্গে বাতিল বা দখল গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নয়ডা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে শিল্পোন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা এবং এক ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠিত হবে। স্থবির, অকার্যকর বা নিয়ম লঙ্ঘনকারী শিল্প প্রকল্পগুলি চিহ্নিত করে যথাযথ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে শিল্প জমি প্রকৃত বিনিয়োগকারী ও উদ্যোগপতিদের জন্য সহজলভ্য করা যায়।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য প্রকৃত শিল্প কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং জমি মজুত বা জল্পনামূলক কার্যকলাপকে নিরুৎসাহিত করা। সমস্ত বরাদ্দপ্রাপ্তদের আবারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে তারা বরাদ্দের শর্তাবলি মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিল্প কার্যক্রম শুরু করবেন। এই পর্যালোচনা ও গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির মাধ্যমে নয়ডা কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলাবদ্ধ জমি ব্যবস্থাপনা, কার্যকর শিল্প প্রশাসন এবং রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই উন্নয়নের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
