বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে দিল্লি সরকার যানবাহনের নির্গমন, সড়ক ও নির্মাণজনিত ধুলা, শিল্প দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর কড়া নজরদারি ও প্রয়োগমূলক অভিযান শুরু করেছে। প্রধান ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ অভিযানের পাশাপাশি BS-VI মানের নিচে থাকা অ-দিল্লি যানবাহনের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে ১৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ৬১,০০০-এর বেশি পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট (PUCC) জারি করা হয়েছে।
পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা দিল্লি–গুরুগ্রাম সীমান্ত এবং জনপথসহ একাধিক পেট্রোল পাম্পে আকস্মিক পরিদর্শন করে অভিযানের বাস্তবায়ন খতিয়ে দেখেন। কর্মী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ জরিমানা আরোপের জন্য নয়, বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আজ যে প্রতিটি বৈধ PUCC ইস্যু হয়েছে, তা দূষণের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে একটি ছোট বিজয়।” তিনি যানবাহন চালকদের সার্টিফিকেট হালনাগাদ রাখতে এবং নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান। পাম্প কর্মীদের দৃঢ় কিন্তু শালীনভাবে নিয়ম কার্যকর করা, যথাযথ সাইনেজ, ঘোষণা ও সারি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কড়া প্রয়োগের প্রথম দিনেই সীমান্ত পয়েন্টগুলিতে প্রায় ৫,০০০টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৫৬৮টি নিয়ম-বহির্ভূত বা গন্তব্যহীন যান ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে দিল্লি জুড়ে ৩,৭৪৬টি যানবাহনের বিরুদ্ধে বৈধ PUCC না থাকার কারণে চালান কাটা হয়, এবং ২১৭টি গন্তব্যহীন ট্রাক পূর্ব ও পশ্চিম পেরিফেরাল এক্সপ্রেসওয়ের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

সিরসা জানান, প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বিত পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট, যার ফলে সীমান্তে নিয়ম-বহির্ভূত যানবাহনের সংখ্যা কমেছে। “আমাদের প্রতিক্রিয়া আঞ্চলিক হওয়া উচিত,” বলেন তিনি এবং সক্রিয় চেকপোস্ট স্থাপনের জন্য হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশকে কৃতিত্ব দেন।
একই সঙ্গে দিল্লির রাস্তায় নাগরিক পরিসরের উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে। শহরের প্রায় ২,৩০০ কিলোমিটার রাস্তা যান্ত্রিকভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে, প্রায় ৫,৫২৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মোবাইল অ্যান্টি-স্মগ গান মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১৩২টি অবৈধ বর্জ্য ফেলার স্থান বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ল্যান্ডফিল সাইটে প্রায় ৩৮,০১৯ মেট্রিক টন পুরনো বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে—যা দূষণ নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী কৌশলকে তুলে ধরে।
অভিযান প্রসঙ্গে সিরসা বলেন, “এটি দিল্লিবাসীর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় একটি জনআন্দোলন। আমাদের দলগুলি ২৪x৭ কাজ করছে—যানবাহন পরীক্ষা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ, দূষণকারী শিল্প নিয়ন্ত্রণ এবং পুরনো বর্জ্য পরিষ্কার। এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বায়ুর মানে স্থায়ী উন্নতি সম্ভব।”
প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি, দিল্লি সরকার সারা বছর দূষণ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। আজ পরিবেশমন্ত্রী ভিড়পূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য শৈবালভিত্তিক (algae-based) বায়ু দূষণ হ্রাস ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং সমন্বিত সড়ক উন্নয়ন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক BISAG-এর উন্নত GIS সরঞ্জাম অধ্যয়ন করেন। পাশাপাশি কারপুলিং অ্যাপ তৈরির পরিকল্পনা এবং গ্রিন দিল্লি অ্যাপকে AI-সমর্থিত বৈশিষ্ট্য দিয়ে উন্নত করার কাজও চলছে, যাতে নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হয়।
সিরসা অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে GRAP-IV নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানান, বিশেষ করে অন্তত ৫০ শতাংশ কর্মীকে ওয়ার্ক-ফ্রম-হোমে রাখার জন্য, যাতে যান চলাচল ও নির্গমন কমে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়ম না মানলে প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ব্যবস্থা নিতে পারে।
দিল্লি সরকার আশা করছে, যানবাহন মালিকরা PUCC নবায়ন ও নতুন শংসাপত্র গ্রহণ করায় ‘নো পিইউসি, নো ফুয়েল’ অভিযান আরও গতি পাবে। সিরসার মতে, বিপুল জনসমর্থন প্রমাণ করে যে বৃহত্তর জনস্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও নাগরিকরা প্রস্তুত—যা দিল্লির বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
