দিল্লির শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি, অডিটে প্রকাশ
৩১ মার্চ ২০২১-এ শেষ হওয়া আর্থিক বছরের পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্টে দিল্লির দুর্বল শিশুদের যত্ন, সুরক্ষা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে।
৩১ মার্চ ২০২১, নতুন দিল্লি।
ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সরকারের জন্য যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয় শিশুদের উপর একটি পারফরম্যান্স অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন। বিধিবদ্ধ বিধানের অধীনে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা এই রিপোর্টে মূল্যায়ন করা হয়েছে যে দুর্বল শিশুদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বিদ্যমান ছিল কিনা। এটি শিশু সুরক্ষা প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবা সরবরাহের একটি ব্যাপক মূল্যায়ন প্রদান করে।
রিপোর্টের পরিধি ও কাঠামো
রিপোর্টটি শিশু সুরক্ষা ও কল্যাণের মূল দিকগুলি কভার করে একাধিক অধ্যায়ে বিভক্ত। এটি দিল্লিতে শিশু সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী আইনি ও নীতিগত কাঠামোর একটি পরিচিতি দিয়ে শুরু হয়, এরপর সমন্বিত শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের বাস্তবায়নের একটি বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়েছে। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে শিশু কল্যাণ কমিটি, শিশু যত্ন প্রতিষ্ঠান, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়াগুলির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
রিপোর্টটিতে পরিশিষ্টও (annexures) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, কর্মী সংখ্যা, আর্থিক অবদান এবং অবকাঠামোগত অবস্থার উপর অতিরিক্ত বিবরণ প্রদান করে। এই সহায়ক উপকরণগুলি শিশু সুরক্ষা কাঠামোর মধ্যে পদ্ধতিগত ফাঁক এবং অপারেশনাল চ্যালেঞ্জগুলির গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়।
পটভূমি ও নীতিগত প্রেক্ষাপট
যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয় শিশুরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশগুলির মধ্যে অন্যতম। এই শ্রেণীতে গৃহহীন শিশু, পথশিশু, শিশু ভিক্ষুক, অনাথ, প্রতিবন্ধী শিশু এবং পাচার বা নির্যাতনের শিকার শিশুরা অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় নীতি কাঠামো রাজ্য সরকারগুলির উপর তাদের সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দায়িত্বের উপর জোর দেয়।
এই অডিটটি করা হয়েছিল এই মূল্যায়ন করার জন্য যে দিল্লি সরকার এই নীতিগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছে কিনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াগুলি উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করছে কিনা। অনুসন্ধানগুলি ইঙ্গিত দেয় যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, বাস্তবায়ন এবং পরিষেবা সরবরাহে উল্লেখযোগ্য ত্রুটি বিদ্যমান।
শিশু সুরক্ষা প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন
রিপোর্টটিতে তুলে ধরা হয়েছে যে সমন্বিত শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ছিল ধীর এবং অপর্যাপ্ত। জেলা শিশু-এর মতো মূল প্রতিষ্ঠানগুলি
শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর সমস্যা: কর্মী সংকট, তহবিল ও অবকাঠামোতে ঘাটতি
সুরক্ষা ইউনিট, শিশু কল্যাণ কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি সময়মতো প্রতিষ্ঠিত হয়নি, যা পরিষেবা প্রদান ও সমন্বয়কে প্রভাবিত করেছে। যত্নে ও সুরক্ষায় থাকা শিশুদের একটি ব্যাপক ও হালনাগাদ সমীক্ষার অভাবও পরিলক্ষিত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া, পরিকল্পনা ও সম্পদ বরাদ্দ অদক্ষ থাকে, যার ফলে কভারেজ ও সহায়তায় ঘাটতি দেখা দেয়।
প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা ও সক্ষমতার সমস্যা
শিশু কল্যাণ কমিটি এবং শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতা একাধিক চ্যালেঞ্জ দ্বারা সীমাবদ্ধ বলে দেখা গেছে। চিহ্নিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির মধ্যে একটি ছিল কর্মীর অভাব, যা কিছু ক্ষেত্রে ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই তীব্র ঘাটতি শিশুদের পর্যাপ্ত যত্ন, তত্ত্বাবধান এবং সহায়তা প্রদানের প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করেছে।
প্রতিবেদনে শিশু পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিষ্ঠা ও কার্যকারিতায় বিলম্বের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, অবকাঠামো হয় অপর্যাপ্ত ছিল অথবা অসম্পূর্ণ ছিল, যার ফলে শিশুদের জীবনযাত্রার মান প্রভাবিত হয়েছে। সঠিক পোশাক, বিছানা, পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাগুলি নিয়মিতভাবে উপলব্ধ ছিল না।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বরাদ্দ
শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে আর্থিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল বলে দেখা গেছে। প্রতিবেদনে তহবিল প্রকাশ ও ব্যবহারে বিলম্ব, এবং আর্থিক সম্পদের অপর্যাপ্ত বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সমস্যাগুলি শিশুদের প্রদত্ত পরিষেবার গুণমান ও উপলব্ধতাকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।
নিরীক্ষায় আরও দেখা গেছে যে স্পনসরশিপ এবং ফস্টার কেয়ার স্কিমের মতো মূল কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রোগ্রামগুলির উদ্দেশ্য হল পরিবার-ভিত্তিক যত্ন প্রদান করা এবং প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের উপর নির্ভরতা কমানো, কিন্তু তাদের সীমিত বাস্তবায়ন তাদের প্রভাবকে সীমাবদ্ধ করেছে।
পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসন চ্যালেঞ্জ
প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে, যা জবাবদিহিতা এবং পরিষেবার গুণমান নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। দুর্বল তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠিত মান ও নির্দেশিকা মেনে চলার ক্ষেত্রে ফাঁক তৈরি করেছে।
শিশুদের পরিবার বা সমাজে দত্তক ও পুনঃএকত্রীকরণ সহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়াগুলিও বিলম্বিত ও অদক্ষ বলে দেখা গেছে। সুসংগঠিত পদ্ধতির অভাব এবং সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে প্রক্রিয়াটি ধীর হয়ে গেছে, যা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী মঙ্গলকে প্রভাবিত করছে।
মূল অনুসন্ধান ও পর্যবেক্ষণ
নিরীক্ষায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের বাস্তবায়নে বিলম্ব।
দিল্লির শিশু সুরক্ষা: অডিট রিপোর্টে উদ্বেগজনক চিত্র, জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন
* ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব
* গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বিলম্ব
* শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলিতে কর্মীর তীব্র সংকট
* পুষ্টি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক পরিষেবাগুলির অপর্যাপ্ত সংস্থান
* দুর্বল আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা
* পালক পরিচর্যা এবং পৃষ্ঠপোষকতা কর্মসূচির অকার্যকর বাস্তবায়ন
* দত্তক গ্রহণ এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব
কর্মক্ষমতা নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি দিল্লির শিশু সুরক্ষা কাঠামোর একটি বিস্তারিত এবং সমালোচনামূলক মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সুরক্ষার জন্য নীতি ও প্রকল্প বিদ্যমান থাকলেও, সেগুলির বাস্তবায়ন অসঙ্গত এবং অপর্যাপ্ত।
প্রতিবেদনটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা, আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি এবং সংস্থাগুলির মধ্যে কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এটি পরিবার-ভিত্তিক পরিচর্যার বিকল্পগুলি প্রসারিত করা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া উন্নত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
সামগ্রিকভাবে, এই অনুসন্ধানগুলি জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানায় যাতে যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয় শিশুরা তাদের বিকাশ ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা, পরিষেবা এবং সুযোগ পায়।
