শিলং, ১২ আগস্ট (হি.স.) : মেঘালয়ে এক বাংলাদেশি হামলাবাজ অনুপ্রবেশকারীকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনা নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ-পশ্চিম খাসিপাহাড়ের পুলিশ সুপার বনরাপ জিরওয়া।
আজ মঙ্গলবার পুলিশ সুপার বনরাপ জিরওয়া জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম খাসিপাহাড় জেলায় ক্রসবর্ডার অনুপ্রবেশ এবং অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের শেরপুর জেলার জেনাঘাটির বাসিন্দা জনৈক আকরামকে গতকাল সোমবার বিকাল প্রায় সাড়ে চারটার দিকে কাইথাকোণা গ্রামের বাসিন্দারা পাকড়াও করেন। গ্রামবাসীরা তাকে বেধড়ক মারপিট করেন।
পুলিশ সুপার জিরওয়া জানান, গ্রামবাসীরা আহত বাংলাদেশিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ তাকে মহেশখোলা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।
তিনি জানান, গত ৭ আগস্ট মধ্যরাতে রংডাঙ্গাই গ্রামে আট থেকে নয়জনের একটি সশস্ত্র দল প্রবেশ করে স্থানীয় দোকানদার জনৈক বালসরাং এ মারাকের ওপর হামলা করে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাচ্ছিল। মারাককে ছুরিকাঘাত করে তাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই অভিযোগে আকরাম হলেন ষষ্ঠ ব্যক্তি অভিযুক্ত। তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
এর আগে গত ৯ আগস্ট গভীর রাতে চিবাক বন এলাকায় মেঘালয় পুলিশ এবং বিএসএফ-এর যৌথ তালাশি অভিযানে পঞ্চম সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৭ আগস্ট মধ্যরাতে হামলাবাজ বাংলাদেশিদের সঙ্গে মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ-এর যৌথবাহিনীর সঙ্গে খঞ্জয় এবং গিলাগোরা এলাকায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে চার বাংলাদেশিকে ধরা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন আহত হয়েছিলেন। আহত ব্যক্তিটি বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল। তিনিই হামলাবাজদের গ্যাং লিডার ছিলেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সুপার বনরাপ জিরওয়া আরও জানান, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল বাংলাদেশ পুলিশের একটি পরিচয়পত্র, তিনটি মেডিক্যাল প্রেসক্রিপশন, তিনটি ওয়্যারলেস হ্যান্ডসেট, একটি কুড়াল, একটি কাঁটাতার কাটার যন্ত্র, একটি ছোট ছুরি, তিনটি মাইক্রো-এক্সপ্লোসিভ, কিছু বাংলাদেশি টাকা এবং ভারতীয় রুপি (টাকা)।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
