ধলাই(ত্রিপুরা) , ২৭ অক্টোবর( হি স) ভারতীয় নাগরিক হিসাবে নিজেকে প্রমান করার জন্য ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন বা আধার, স্থায়ী বসবাসকারী সার্টিফিকেট বা পি আর টি সি, স্থানীয় কোন গ্রাম বা নগর এলাকার বসবাসকারী শংসাপত্র অন্যতম কয়েকটি দলিল । এই তিনটির সবকটি থাকলে মিলতে পারে অনেক সুবিধা । এই ক্ষেত্রে বিদ্যালয় ছুট শংসাপত্র বা স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট অন্যতম সহায়ক দলিল। এই অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আখের গুছাতে কাজ করে যাচ্ছে বেশ বড় একটি চক্র। মূলত বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা পরিবারগুলোকে রাতারাতি সরকারি নথিতে ভারতীয় নাগরিক বানিয়ে দিচ্ছে এই গোষ্ঠীটি। এমনই ছবি ধরা পড়লো ত্রিপুরার ধলাই জেলার গন্ডাতুইসা সহ চারটি মহকুমার সবকয়টিতে।
ধলাই জেলার কমলপুর, লংতরাইভ্যালি এবং গন্ডাতুইসা মহকুমাগুলোর প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা। সেই তুলনায় জেলা সদর আমবাসা অনেকটাই মাঝামাঝি অবস্থিত। আগেও অর্থাৎ বিগত পঁচিশ ত্রিশ বছরেও বহুবার এই জেলা থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের দ্বারা অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এসেছে। ফলে এটা স্পষ্ট যে এক অংশের সরকারি কর্মচারী এই কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে তা সম্ভব নয়।
২০১৮ থেকে ২০২৩ এর মে – জুন মাস পর্যন্ত এই চক্রটির সক্রিয়তা অনেকটা কম ছিল । প্রশাসন ও গোয়েন্দা সূত্রের খবর, মূলত জুন মাস থেকে হঠাৎ করেই বাড়তে থাকে এই ধরণের কার্য্যকলাপ। সীমান্তের অরক্ষিত পথে ভারতে প্রবেশ করে মাত্র পনেরো দিনের মধ্যেও আধার কার্ড , পি আর টি সি , রেশন কার্ড এবং পঞ্চায়েত পরিবার তালিকায় নাম তোলা সম্ভব হচ্ছে। অবিশ্বাস্য হলেও এটা ঘটনা যে খোদ জেলা সদর আমবাসায় দু’মাস আগে আসা এক বাংলাদেশী পরিবার এখন কাগজেপত্রে পুরোদস্তুর ভারতীয়। জমিও কিনেছেন। এরকম ঘটনা কমলপুর এবং লংতরাইভ্যালি মহকুমাতেও রয়েছে প্রচুর।
গন্ডাতুইসা মহকুমার রীতিমতো মোচ্ছব চলছে বাঁকা পথে ভারতীয় শংসাপত্র হাতিয়ে নেওয়ার। খবর, পাঁচ থেকে সাত লক্ষ টাকার বিনিময়ে সকল নথিই মিলছে। একাংশ অ্যাডভোকেট ক্লার্ক এবং অসাধু সরকারি কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত । এরকম ঘটনা বেশি ঘটছে মহকুমার পঞ্চরতন, তুইচাকমা, কালাঝাড়ি নারকেলবাগান , বোয়ালখালির মতো ভিলেজ কাউন্সিল গুলোতে। বহু স্কুল থেকেও সহজেই মিলে যাচ্ছে স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট। যে ব্যক্তি কখনো এই স্কুলের ত্রিসীমানায় পা রাখেন নি বা যাদের বাপ দাদা কেউ এই দেশেই আসেন নি তাদের শংসাপত্রেও নির্বিকারভাবে স্বাক্ষর করে দিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। অভিযোগ , বিনা পরিশ্রমে মোটা কামাইয়ে সরকারি কর্মীরাও বশ হচ্ছেন।
গুরুত্বপূর্ন হল, ডিজিটাল স্বাক্ষর এর কারণে প্রতিটি আবেদনপত্র পরীক্ষার সুযোগ থাকে না আধিকারিকদের। মহকুমা প্রশাসকদের কাজও অনেক বেড়েছে। ফলে সেকশনের দায়িত্ব প্রাপ্তদের কাছে এই দায়িত্ব থাকে। তারাও এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাল দস্তাবেজে শংসাপত্র বের করে নিজেদের পকেট ভারী করেন। এই অবস্থায় , দাবি উঠেছে প্রশাসন করা হাতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করুক। দেশের স্বার্থে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে হলেও অবৈধ অর্থ কামানোর ধান্দা থেকে দূরে আসুক ধান্দাবাজরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / অনীশ
