লন্ডন, ৩১ অক্টোবর (হি.স.): যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জীবনে বিতর্কের জেরে বড় শাস্তির মুখে ব্রিটেনের রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু। রাজা তৃতীয় চার্লসের নির্দেশে তাঁর ‘প্রিন্স’ উপাধি এবং সমস্ত রাজকীয় খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকি, তাঁকে লন্ডনের উইন্ডসর প্রাসাদের বাসভবন ‘রয়্যাল লজ’ থেকেও বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বাকিংহাম প্রাসাদের তরফে জানানো হয়েছে, রাজা চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন এবং অ্যান্ড্রুকে এখন থেকে ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর’ নামে ডাকা হবে।
রাজপরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রয়্যাল লজের লিজ সারেন্ডার করার জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অ্যান্ড্রু এখন সান্ড্রিংহাম এস্টেটে বিকল্প বাসস্থানে থাকবেন।” জানা গিয়েছে, এই বাসস্থানের যাবতীয় খরচ রাজা চার্লস নিজেই বহন করবেন।
উল্লেখ্য, ৬৫ বছর বয়সি রাজকুমার অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিক ভার্জিনিয়া জিওফ্রে অভিযোগ তোলেন যে, নাবালিকা অবস্থায় তিনবার তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন অ্যান্ড্রু। সম্প্রতি প্রকাশিত জিওফ্রের মৃত্যুর পর লেখা স্মৃতিকথায়ও একই দাবি করা হয়েছে। যদিও অ্যান্ড্রু বরাবরই তা অস্বীকার করেছেন।অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে তদন্তের চাপ বাড়তেই রাজা চার্লস এই সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি অ্যান্ড্রু ছাড়াও রাজপরিবারের যে সদস্যকে নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তিনি রাজকুমার হ্যারি। যিনি সম্পর্কে রাজা তৃতীয় চার্লসের পুত্র এবং অ্যান্ড্রুর ভ্রাতুষ্পুত্র। হ্যারি অভিনেত্রী মেগান মার্কলকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই অশান্তি লেগেই ছিল রাজপরিবারে। রাজপরিবারের ‘অংশ’ হলেও, শ্বেতাঙ্গ না হওয়ায় মেগানকে কোনও দিনই রাজপরিবারের ‘সদস্য’ হিসাবে গণ্য করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছিলেন হ্যারি।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য
