কোলন, ২১ অক্টোবর (হি.স.): পুজোর সময় ঘরে ফিরতে না পারার দুঃখ প্রবাসীরাই বোঝে। দেশজুড়ে যখন উৎসবের সমারোহ, তখন বিদেশ বিভুঁইটাকেও নিজের মতো করে সাজিয়ে নেন প্রবাসী বাঙালিরা। যেমন এবারেও নিয়েছেন কোলনের বাঙালিরা।
বিদেশে পুজোর জন্য বেছে নেওয়া হয় সাধারণত সাপ্তাহান্তগুলোকে। আর এবার পঞ্জিকা অনুযায়ী উইকএন্ডেই সপ্তমী অষ্টমী। পুরোপুরে পঞ্জিকা মেনে চলা সম্ভব না হলেও যতটা সম্ভব আচার মেনে পুজো হয়। পৃথক মণ্ডপ করতে হয় না। পুজো ও সমাবেশ হয় কোনও হলঘরে।
রাইন নদীর তীরে ছোট্ট, ছবির মত শহর এই কোলন। অডিকোলনের শহর, বিশ্বখ্যাত জোড়াগির্জার শহর। জনসংখ্যা ১০ লক্ষের সামান্য বেশি। সংখ্যায় কম হলেও এখানকার কিছু বাঙালি আছেন ৪০-৫০ বছর ধরে। এই পুজো শুরুর সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ চলে গিয়েছেন অন্য লোকে। যাঁরা আছেন, পড়াশোনা বা কর্মসূত্রে এসে থেকে গিয়েছেন। এঁদের অনেকেরই স্ত্রী জার্মান। তাঁরাও পুজোয় এসে হইহই করেন। উপাচার সাজানোয় হাত লাগান। বছরে এই সময়টা শাড়িও পড়েন ওঁরা।
জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নেওয়া হয় উপযুক্ত ব্যবস্থা। আগে থেকে নাম নথিভুক্তিকরণ করা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী হলে একত্রিত হতে পারবেন পাঁচশো লোক। পুজোর সাজসরঞ্জাম, যা এখানে পাওয়া যায় না, সব চলে আসে সাগরপাড়ি দিয়ে কলকাতা থেকে।কলাবৌ স্নান, সন্ধিপুজো, ধুনুচি নাচ, সিঁদুর খেলা বাদ যায় না কিচ্ছুটি।
‘ডয়েচে ভেলে’-র (জার্মানির আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কেন্দ্র) বাংলা বিভাগের সম্পাদক হিসাবে গত শতকের নব্বইয়ের দশকে জার্মানিতে ছিলাম সেই থাকার সুবাদে সপরিবারে উপর্যুপরি কয়েক বছর এই পুজো দেখার সুযোগ হয়েছে এই প্রতিবেদকের।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৪টি বোমা পড়ার পরে আজও হয়েও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ঐতিহাসিক এই শহরেই পালিত হচ্ছে ‘ভারত সমিতি’ দ্বারা পরিচালিত ৩২ তম দুর্গা পুজো।
স্থানীয় বাঙালিরা চাঁদা তুলে এই পুজো করেন। আগে আশপাশের বিভিন্ন শহর থেকে এমনকি পড়শি দেশ যেমন নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ থেকেও বহু মানুষ আসেন কোলনে। এর মধ্যেই আলোচনা হয় পুজোসংখ্যা নিয়ে। গত পঁচিশ বছরে কিছু নতুন পুজো হওয়ায় ভিনরাজ্যের আগ্রহীর সংখ্যা কমে গিয়েছে।
প্রতি বছর পুজোর সময় সপ্তাহান্তের দু‘দিন দুই বেলা চলে বাঙালিদের রান্নার মহাভোজ। বাঙালির নানাবিধ সাবেক পদই ভোজের প্রধান আকর্ষণ। পুজো কমিটির সদস্যরা নিজেরাই যাবতীয় রান্নাবান্নার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পুজো শেষ হয়েও যেন হয় না। বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করা হয়। তাতে পরিবেশিত হয় পুরনো দিনের বাংলা নানা সোনালি গান। প্রবাসী বাঙালিদের মন আকুলি বিকুলি করতে থাকে। সব আছে, অনেক আছে! কিন্তু কী যেন নেই, কী যেন নেই! আবার অপেক্ষা পরের বছরের পুজোর জন্য।
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
