নয়ডা, ৮ জানুয়ারি ২০২৬:
ভাঙেল বেগমপুর গ্রামে সরকারি ও জনসাধারণের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ওয়ার্ক সার্কেল ৮ খাসরা নম্বর ৫৮-এ পরিচালনা করে একটি বিস্তৃত উচ্ছেদ অভিযান। জনসম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং ভূমি-ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে প্রায় ২,০০০ বর্গমিটার জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখিত জমিটি দীর্ঘ সময় ধরে অননুমোদিত দখলে ছিল, যার ফলে এলাকায় প্রশাসনিক পরিকল্পনা ও উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। উচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার পর জমিটি তার মূল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই উচ্ছেদ অভিযানটি ওয়ার্ক সার্কেল ৮-এর পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। অভিযান শুরুর আগে ভূমি রেকর্ড, নকশা ও নথিপত্রের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি বিধি মেনে পরিচালিত হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া ছিল, ফলে অভিযান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
দ্রুত নগরায়ণের ফলে বহু এলাকায়—বিশেষত গ্রাম ও শহর সংলগ্ন অঞ্চলে—সরকারি ও জনসাধারণের জমিতে অবৈধ দখল একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভাঙেল বেগমপুরে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে জনসম্পত্তি সুরক্ষা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, অবৈধ দখলমুক্ত জমি শুধু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের জন্যই নয়, ভবিষ্যৎ জনস্বার্থ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যও অপরিহার্য।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, এ ধরনের অভিযানের আগে নিয়মিত সমীক্ষা চালিয়ে এবং ভূমি রেকর্ড যাচাই করে অবৈধ দখলযুক্ত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়। দখলের পরিমাণ ও বিস্তার নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণ এবং জমি খালি করার পদক্ষেপ নেয়। খাসরা নম্বর ৫৮-এ পরিচালিত অভিযানও এই সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ, যার উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ব্যবহারে থাকা জমি উদ্ধার করা।
প্রায় ২,০০০ বর্গমিটার জমি দখলমুক্ত হওয়ায় এলাকায় প্রশাসনিক পরিকল্পনা আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পুনরায় অবৈধ দখল রোধ করতেও এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা নেবে। কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা জমিতে পুনরায় দখল ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি জমির স্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ ও চিহ্নিতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে জমির অবস্থান ও মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ না দেখা দেয়।
স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, চিহ্নিত অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি বা জনসাধারণের জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
৮ জানুয়ারি ওয়ার্ক সার্কেল ৮-এর পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযান অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। ভাঙেল বেগমপুরে জমি উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, জনস্বার্থ ও উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জমি রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও আইনসম্মত ও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের অভিযান চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
