ঝাড়গ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বর, (হি.স.): সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিং এক স্বপ্নাদেশে মায়ের মন্দির নির্মাণের নির্দেশ পান। রানির হাতের সোনার কাঁকন এবং প্রায় ন’শো সের সোনা দিয়ে তিনি নির্মাণ করেন দেবীর প্রতিমা। সেই থেকেই নাম হয় ‘কনক দুর্গা’। এ সবের প্রমাণ নেই। কিন্তু চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির ঘিরে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই জনশ্রুতি।
ঝাড়গ্রাম শহর থেকে প্রায় ১৪-১৫ কিলোমিটার দূরে, ঘন অরণ্য আর ডুলুং নদীর ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত রহস্যে মোড়া মন্দির— চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই শক্তিপীঠ ঘিরে প্রচলিত আছে অগণিত কাহিনি, কিংবদন্তি ও অলৌকিক রটনা।লোককথা বলছে, এই জনপদের নাম একসময়ে ছিল তিহার দ্বীপগড়, পরে সেটি হয়ে ওঠে চিল্কিগড়।
কথায় বলে, যিনি রাঁধেন তিনি চুলও বাঁধেন। অর্থাৎ তিনি আদর্শ ঘরণী। বাংলা ও বাঙালির মননে মা দুর্গাও তাই। মা কনক দুর্গা মেয়ে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর চুল বেঁধে দেন কিনা, এমন অবশ্য কোনও লোককথা নেই।
স্থানীয়রা বলেন, মহাষ্টমীর রাতে এখানে যে ভোগ নিবেদন করা হয়, তা রাঁধেন স্বয়ং মা দুর্গা! এই বিশ্বাসই আজও হাজার হাজার মানুষকে আকর্ষণ করে নিয়ে আসে গভীর অরণ্যের বুক চিরে তৈরি এই মন্দিরে।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
