গুয়াহাটি, ২৯ ডিসেম্বর (হি.স.) : বিভিন্ন নতুন রেলওয়ে লাইন প্রকল্পের কাজ পরিচালনার দ্বারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেলওয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবগুলি রাজ্য রাজধানীকে সংযুক্ত করার জন্য নির্মীয়মাণ নতুন রেলওয়ে লাইনগুলি রাজধানী সংযুক্তিকরণ প্রকল্পের অধীনে।
এ ধরনের একটি প্রকল্প হলো উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামকে দেশের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ভৈরবী-সাইরাং নতুন রেল লাইন প্রকল্প, যা সম্পূর্ণ হওয়ার শেষ পর্যায়ে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিশেষত মিজোরামে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। ভৈরবী-সাইরাং প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো উত্তরপূর্ব ভারতে অতিরিক্ত ৫১.৩৮ কিমি রেলওয়ে ট্র্যাক সৃষ্টি করা। প্রকল্পটি ইতিমধ্যে ৯১ শতাংশ অগ্রগতি অর্জন করেছে।
কঠিন ভূখণ্ডে নির্মীয়মাণ ভৈরবী-সাইরাং রেলওয়ে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে একাধিক টানেল এবং ব্রিজ। এই প্রকল্পে টানেলের মোট দৈর্ঘ্য ১২,৮৫৩ মিটার, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১২,৭১০ মিটার টানেলের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রকল্পটিতে মোট ৫৫টি মেজর ব্রিজ এবং ৮৭টি মাইনোর ব্রিজ রয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১২টি মেজর ব্রিজ এবং ৮৫টি মাইনোর ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
প্রকল্পটির সবচেয়ে উঁচু পিয়ার অর্থাৎ সাইরাং স্টেশনে প্রবেশের সময় ১৯৬ নম্বর ব্রিজের পিয়ার পি-৪ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এই পিয়ারের উচ্চতা ১০৪ মিটার, যা কুতুব মিনারের তুলনায় ৪২ মিটার উঁচু। এছাড়া প্রকল্পটিতে ৭টি রোড ওভার ব্রিজ এবং ৯টি রোড আন্ডার ব্রিজ রয়েছে।
এই প্রকল্পটি পরিচালনার ক্ষেত্রে মিজোরামে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘকালীন বর্ষার জন্য খুব কম কাজের সময়, জঙ্গলের মধ্য দিয়ে খুব কঠিন ও পাহাড়ি ভূ-খণ্ড, নিম্নমানের প্রবেশযোগ্যতা, নির্মাণ উপকরণ ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবের ইত্যাদি মতো একাধিক প্রত্যাহ্বান সত্ত্বেও উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এই প্রকল্পটি দ্রুত চালু করার প্রতিশ্রুতি পূরণে সমস্ত প্রচেষ্টা করেছে।
নতুন এই রেল প্রকল্পটি মিজোরামের জনগণকে উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা প্রদান করার পাশাপাশি অঞ্চলটিতে ক্ষুদ্র মাপের শিল্প বিকাশে সাহায্য করবে এবং রাজ্যের পর্যটন শিল্পকেও উৎসাহিত করবে।
এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ দেশের দূর দূরান্ত অঞ্চলে যাওয়ার সুবিধা লাভ করবেন এবং স্থানীয় মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য মিজোরামে কম খরচে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর সরবরাহ বিরামহীনভাবে করা সম্ভব হবে। এক প্রেস বার্তায় এ খবর জানিয়েছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে।
হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা / সমীপ
