নয়াদিল্লি, ৩০ সেপ্টেম্বর (হি.স.): প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি দিল্লিবাসী। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী থেকে যখন দেশের রাজধানীতে গেলাম, বছরখানেকের মধ্যেই সূরজকুণ্ড রোডে একটা ফ্ল্যাট কেনার অবকাশ হয়েছিল। কয়েক বছর বাদেই শুরু হল বিশ্বকর্মা কলোনি দুর্গাপুজো সমিতির আরাধনা। ওই তল্লাটে এখন প্রায় ১০০ বাঙালি পরিবার।
একাধারে ঘরোয়া, অথচ দারুণ আনন্দ এই কটা দিন! প্রতি বছরই মন যেন গুনগুন করে গেয়ে ওঠে ‘এত আলো এত আকাশ আগে দেখিনি’। আগে বিসর্জন হত যমুনায়। দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক বছর ধরে সেই সুযোগ হচ্ছে না। এখন আঞ্চলিক কৃত্রিম জলাশয়ে হয় বিসর্জন। বাকি ক’দিনের হইহইয়ের চরিত্র প্রতি বছর প্রায় একই রকমের।
তার আগে কলকাতায় থাকাকালীন পড়তাম সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখার টুকরো স্মৃতি এক আধ সময়ে মনে উঁকি দেয়। তবে আরও বেশি মনে পড়ে মেদিনীপুরে ঘাটাল মহকুমার সয়না গ্রামের পারিবারিক পুজোর কথা। শৈশব-কৈশোরের পুজোর সিংহভাগ ওখানেই কাটত। আত্মীয়-বন্ধুদের সাহচর্য আবিষ্ট করে দিত অদ্ভুত ভালোলাগায়।
এখন আর সয়নার পুজোয় যাওয়া হয়না। দিল্লির পুজোর রোশনাইয়ের মাঝেও গ্রামের পারিবারিক পুজোর কথা মনে পড়লে আবেগ উথলে ওঠে। মানসচক্ষে অনেককে অনুভব করি। যেন কুড়ে কুড়ে খায় এক টুকরো অপরাধবোধ।
(অনিরুদ্ধ মজুমদার – উদ্যোগপতি, নয়াদিল্লি/ সাক্ষাৎকার— অশোক সেনগুপ্ত)
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
