দুর্গাপুর, ৮ আগস্ট (হি.স.): বেহাল রাস্তা, মোবাইলে ব্যস্ত লরি চালক, আর তাতেই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। মৃতের নাম কৃষ্ণ বাউরি (২৪) । শুক্রবার সকালে দুর্ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার সিলামপুর কাটাবাগান এলাকা। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়িতে ইটবৃষ্টি, জনতার রোষে ভাঙচুর, দীর্ঘক্ষণ সময় পেরোনোর পর উদ্ধার করা হয় মৃতদেহ। এলাকায় জারি পুলিশ পিকেট।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবক কৃষ্ণ বাউরি সিলামপুর হাসপাতাল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দা। এদিন সকালে সাইকেলে করে বাজার থেকে ফিরছিলেন। তখনই খানাখন্দে ভরা রাস্তায় হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। পেছন থেকে আসা বালি বোঝাই লরি তাঁকে পিষে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চালক সেই সময় মোবাইলে ব্যস্ত ছিলেন। আশপাশ থেকে চিৎকার করলেও কোনও গুরুত্ব দেননি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কৃষ্ণর। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অবরোধ গড়ে তোলে, ঘাতক লরিতে চলে ব্যাপক ভাঙচুর। মৃতদেহ উদ্ধার করতে এলে পুলিশের গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়া হয়। একাধিক গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়, আহত হন কয়েকজন পুলিশকর্মীও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দামোদরের বালিঘাট থেকে নিয়মিত বালি বোঝাই ওভারলোড লরি-ডাম্পার যাতায়াত করে। তার ফলে সিলামপুর-আমলাজোড়া রোডটি কার্যত চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষা আর ভারী গাড়ির চাপে রাস্তায় তৈরি হয়েছে গর্ত, পিচ উঠে গিয়ে জল জমে যাচ্ছে। অথচ এই রাস্তাই আমলাজোড়া পঞ্চায়েতে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এবং সিলামপুর স্কুল ও হাসপাতালে যাতায়াতের মাধ্যম।
তাঁদের দাবি, প্রশাসন বহুবার আশ্বাস দিলেও এখনও সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। টোল আদায় হলেও রাস্তায় কোনও উন্নয়ন নেই। বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বক্তব্য, পথ আটকালেই পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিথ্যা মামলা দেয়। অথচ রাস্তাটাই যখন মৃত্যুফাঁদ, তখন প্রশাসন নির্বিকার। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় আসে কমব্যাট ফোর্স ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। হাজির হন ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্ত। আট ঘণ্টার পর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের জেলা সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, “রোজ এই রাস্তায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চলতে হয়। তিন মাস আগে টোল টেন্ডার হলেও এখনও নতুন সংস্থা কাজ শুরু করেনি। পুরনো সংস্থাকেই টেন্ডার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের গাফিলতির ফলেই মৃত্যু হল তরতাজা যুবকের।” যদিও সব অভিযোগ উড়িয়ে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্য জানান,
“রাস্তাটি পূর্ত দফতরের অধীনে। বর্ষা কাটলেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে। নতুন টেন্ডার আইনি কারণে স্থগিত রয়েছে।” এদিকে পুলিশ প্রশাসনের তরফে ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানান, “মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় শান্তি ফেরাতে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বাহিনী মোতায়েন করা হবে।”
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা
