গুয়াহাটি, ২৭ আগস্ট (হি.স.) : অসমে ভিন্ন ধৰ্মাবলম্বীদের কাছে জমি ক্রয়বিক্রয়ে নতুন বিধিনিষেধ বা এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিজিওর) প্রবর্তন হচ্ছে। রাজ্য মন্ত্ৰিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত সিলমোহর পড়েছে, জানিয়েছন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
আজ বুধবার দিশপুরে অবস্থিত লোকসেবা ভবনে মুখ্যমন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা প্রথমেই জানান, আজ রাজ্য মন্ত্রিসভা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষজনের (ইন্টার রিলিজিয়ন ল্যান্ড ট্ৰান্সফার) কাছে জমি ক্রয়বিক্রয়ের ব্যাপারে সরাসরি যাচাই করতে এসওপি অনুমোদন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়েছিলেন যে আসামের মতো একটি সংবেদনশীল রাজ্যে, অপব্যবহার রোধ করার জন্য জমি হস্তান্তরকে সাবধানে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
নতুন বিধিনিয়মের তথ্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসমের মতো একটি সংবেদনশীল রাজ্যে অবৈধ গতিবিধি রোধ করতে ল্যান্ড ট্ৰান্সফারকে সাবধানে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’ নয়া এসওপির তথ্য দিয়ে তিনি জানান, জমি ক্ৰয়বিক্ৰয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্ৰথমে সার্কল অফিসারের কাৰ্যালয়ে আবেদন করতে হবে। সার্কল অফিসার প্ৰাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তা পাঠাবেন জেলাশাসকের কাছে। জেলাশাসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাঠাবেন রাজস্ব দফতরে। রাজস্ব বিভাগে একজন নোডাল অফিসার যাবতীয় নথিপত্ পরীক্ষা করবেন। রাজস্ব বিভাগ ফাইল পাঠাবেন আসাম পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-য়। এসবি চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে পরীক্ষা এবং অনুসন্ধান করবে। এই চারটি বিষয়গুলি যথাক্ৰমে –
১. জমির মালিক বৈধ কিনা এবং নথিপত্র জাল কিনা?
২. ক্রেতার টাকার উৎস পরীক্ষা।
৩. জমি ক্রয়বিক্রয়ের ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামাজিক প্ৰভাব পড়বে কিনা?
৪. জমি কেনাবেচার ফলে রাষ্ট্ৰীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হবে কিনা?
এ সব বিষয়ে যাচাই-পরীক্ষার পর আসাম পুলিশের বিশেষ শাখা তাদের প্ৰতিবেদন পাঠাবে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের কাছে। জেলাশাসক সব বিষয় যাচাই-পরীক্ষা করে জমি কিনতে বা বেচতে অনুমতি দেবেন বা নাকচ করবেন। বহিঃরাজ্যের বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (এনজিও)-র ক্ষেত্ৰেও প্ৰযোজ্য হবে এই নিয়ম।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
