
কোকরাঝাড় (অসম), ১৩ আগস্ট (হি.স.) : অসমে উপজাতি বেল্ট যেমন আছে তেমনই থাকবে, অধিকন্তু ৬০০টি গ্ৰামে চলছে মাইক্রো ট্রাইবাল বেল্ট ও ব্লক তৈরির কাজ, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
প্রবল বর্ষণকে উপেক্ষা করে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, মন্ত্রী অশোক সিংঘল, বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর বেশ কয়েকজন সিনিয়র বিজেপি নেতাকে সঙ্গে নিয়ে আজ বুধবার কোকরাঝাড়ের চন্দ্রপাড়া খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত বিজয় সংকল্প সভায় বিশাল জনতার সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। বনরগাঁও বডোল্যান্ড টেরিটরিয়াল কাউন্সিল (বিটিসি) নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এই সমাবেশের লক্ষ্য, আসন্ন বিটিসি নির্বাচনে দলের প্রচারণাকে শক্তিশালী করার পাশপাশি দলীয় কার্যকর্তাদের উজ্জীবিত করা।
বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে দলের প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন-কি ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল (ইউপিপিএল) এবং বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ)-এর মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলিও বিজেপির ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক পদচারণাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শৰ্মা বিটিআর-এ সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি বিতরণের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, সুবিধাগুলি একচেটিয়াভাবে ‘ভিসিডিসি’ (গ্রাম পরিষদ উন্নয়ন কমিটি বা ভিলেজ কাউন্সিল ডেভেলপমেন্ট কমিটি)-র মাধ্যমে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘বিটিআর-এ সরকারি কল্যাণমূলক উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। সব কিছু ভিসিডিসি-র মাধ্যমে প্ৰদান করা হচ্ছে। এজন্য ভিসিডিসি নীতিগুলি সংস্কার করা হবে।’ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্ৰীর ঘোষণা, ‘কোকরাঝাড়ে একটি বিজেপি নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ন্যায়সংগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ৷’
ড. শর্মা বলেন, ‘বিজেপি আদিবাসী বিরোধী নয়। অধিকন্তু আমরা ৬০০টি গ্রামে মাইক্রো ট্রাইবাল বেল্ট এবং ব্লক তৈরির কাজ করছি।’ তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বিদ্যমান উপজাতি বেল্ট এবং ব্লকগুলিকে ভেঙে ফেলার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। এমন-কি আমাদের স্বপ্নেও আমরা উপজাতীয় বেল্ট ভাঙার কথা ভাবিনি।’
অসমে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য বর্ধিত চার্জের বিষয়ে জনসাধারণের উদ্বেগকে ভুল বোঝাবুঝি বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ‘জনসাধারণকে কোনও অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না।’ পাশাপাশি তিনি আয়ুষ্মান ভারত এবং আয়ুষ্মান অসম স্বাস্থ্য কার্ড সংক্রান্ত বিভ্রান্তির সমাধান করে বলেছেন, ‘এই প্রকল্পগুলির অধীনে সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অগ্ৰিম ১০ হাজার টাকার দাবি সঠিক নয়। জনসাধারণের কাছ থেকে এ জাতীয় অর্থ প্রদানের প্রয়োজন নেই।’
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
