নয়াদিল্লি, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫:
দিল্লিতে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ও যানজট কমাতে দিল্লি সরকার একটি বিস্তৃত পরিবহন রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বে সরকার জানিয়েছে, শহরের রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা না কমালে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সে কারণে শেয়ার্ড মোবিলিটি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং যানবাহনের ফিটনেস পর্যবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কম সংখ্যক গাড়িতে বেশি মানুষ যাতায়াত নিশ্চিত করা। এতে একদিকে যানজট কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয় হবে ও বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। শেয়ার্ড ট্যাক্সি ও ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ালে সড়কের চাপ কমবে এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাবও কম হবে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দিল্লি সরকার ওলা, উবার-সহ বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করছে। শীঘ্রই একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শেয়ার্ড রাইড পরিষেবা জোরদার করা, মহিলা চালকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসার নিয়ে আলোচনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোভিডের আগে দিল্লিতে শেয়ার্ড ট্যাক্সি পরিষেবা চালু ছিল, তবে পরবর্তীতে তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন সরকার সেই পরিষেবাগুলি নতুনভাবে এবং আরও সংগঠিত পদ্ধতিতে পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিক যানবাহনকে ট্যাক্সি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।
নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ট্যাক্সি পরিষেবায় আরও বেশি সংখ্যক মহিলা চালক নিয়োগ সরকারের অগ্রাধিকার। এতে একদিকে যেমন মহিলাদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, তেমনি অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
যানবাহন থেকে সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ফিটনেস টেস্টিং সেন্টারের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। ঝুলঝুলি কেন্দ্র ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে, যেখানে বছরে প্রায় ৭০,০০০টি গাড়ির পরীক্ষা করা সম্ভব। বুরারি কেন্দ্রটি আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে এবং নন্দ নগরী ও তেখান্ডে দুটি নতুন কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে চালু হবে। এই চারটি কেন্দ্র মিলিয়ে বছরে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লক্ষ যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা যাবে।
এছাড়াও দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (DTC)-এর ডিপোগুলিতে আরও পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় ফিটনেস টেস্টিং সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলি বাওয়ানা, গাজিপুর, সাওদা ঘেভরা, GTK ডিপো এবং দিচাউ কালানে স্থাপন করা হবে। সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমোদন ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে দিল্লির বায়ুদূষণের প্রধান কারণ যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া। সে কারণেই সরকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দিচ্ছে। মেট্রো, বাস এবং ইলেকট্রিক যানবাহনই দিল্লির দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন নীতির ভিত্তি।
দিল্লি মেট্রোর ফেজ–৫এ-র কয়েকটি রুট ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকারের নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে, যার ফলে মেট্রো নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মেট্রোর সম্প্রসারণ যানজট কমাতে ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
“শক্তিশালী গণপরিবহন ব্যবস্থাই রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়,” — এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। পরিবহন সংস্কারের পাশাপাশি ধুলো নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণস্থলে কড়া নজরদারি, যান্ত্রিকভাবে রাস্তা পরিষ্কার, খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা এবং দূষণপ্রবণ এলাকায় মিস্ট স্প্রে ও অ্যান্টি-স্মগ গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে এই পরিকল্পনাগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। দিল্লিবাসীর জন্য পরিষ্কার বাতাস, সহজ যাতায়াত এবং টেকসই শহর গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
