নয়াদিল্লি, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী Rekha Gupta–এর নেতৃত্বাধীন সরকার রাজধানীর প্রতিটি জমির খণ্ডকে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় দেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিল্লির প্রতিটি জমিকে ১৪ অঙ্কের ইউনিক ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ULPIN) প্রদান করা হবে, যা কার্যত জমির ‘আধার কার্ড’ হিসেবে কাজ করবে। এর উদ্দেশ্য হলো জমির নথিপত্রকে ডিজিটালভাবে সুরক্ষিত ও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘ভূ আধার’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগ জমি সংক্রান্ত বিরোধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে, স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা নেবে। তাঁর মতে, ULPIN কেবল একটি নম্বর নয়, বরং জমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী ডিজিটাল অস্ত্র।
‘মিশন মোড’-এ বাস্তবায়ন
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লিতে দীর্ঘদিন ধরেই এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল। কেন্দ্র সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক ও ভূমি সম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে ২০১৬ সালে এই প্রকল্প চালু হলেও দিল্লিতে তা কার্যকর করা হয়নি। বর্তমান সরকার এখন ‘মিশন মোড’-এ এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রকল্পের বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজস্ব দপ্তরের আইটি শাখাকে দেওয়া হয়েছে, যা Survey of India–এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের কার্যকর সমাধান
১৪ অঙ্কের ULPIN হবে জিও-রেফারেন্সড, যার মাধ্যমে জমির সীমানা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ কমবে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে জমির তথ্য সমন্বয় সহজ হবে এবং একই সম্পত্তির একাধিক রেজিস্ট্রি বা প্রতারণা রোধ করা যাবে।
সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর। মালিকানা প্রমাণের জন্য একাধিক নথির প্রয়োজন হবে না; একটি ULPIN নম্বরের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট জমির সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় ২ টেরাবাইট উচ্চমানের জিওস্পেশিয়াল ডেটা এবং ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থো রেক্টিফাইড ইমেজ (ORI) Survey of India থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লির সমস্ত এলাকায় নির্ভুল ULPIN তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যে SVAMITVA প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত ৪৮টি গ্রামও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রকল্পের জন্য পূর্বে ₹১৩২.০৭ লক্ষ বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আইটি শাখার উপর ন্যস্ত।
পশ্চিম দিল্লির তিলাংপুর কোটলা গ্রামে একটি পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ২৭৪টি ULPIN রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে।
‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi–এর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ দর্শনকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক বিপ্লবাত্মক পদক্ষেপ। আধুনিক ও সমন্বিত ভূমি নথি একটি উন্নত ভারতের ভিত্তি গড়ে তোলে এবং নাগরিকদের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত হানে।
‘ভূ আধার’ শুধুমাত্র একটি সংখ্যাগত পরিচয় নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের সম্পত্তির অধিকারের সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ডিজিটাল মাধ্যম। এই ব্যবস্থার ফলে দিল্লির প্রতিটি ইঞ্চি জমি একটি যাচাইকৃত ডিজিটাল পরিচয় পাবে, যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বিরোধমুক্ত মালিকানা নিশ্চিত করবে।
