নয়ডায় ডেটিং অ্যাপ প্রতারণা: ডাকাতি ও চাঁদাবাজি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার
নয়ডায় একটি বড় সাইবার অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে একটি চক্র ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে অর্থ লুট ও চাঁদাবাজি করত। এই ঘটনা অনলাইন নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
০১ এপ্রিল ২০২৬, নয়ডা।
নয়ডা পুলিশ ডেটিং অ্যাপ-ভিত্তিক ডাকাতি ও চাঁদাবাজি চক্রে জড়িত তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডেটিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলত, তাদের সাক্ষাতের জন্য ডাকত এবং তারপর হুমকি দিয়ে বা ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ বা মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নিত।
*চক্রটি যেভাবে কাজ করত*
পুলিশি তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করত এবং বিশ্বাস অর্জন করত। এরপর তাদের পূর্বনির্ধারিত স্থানে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানাত। ভুক্তভোগীরা সেখানে পৌঁছানোর পর, তাদের হয় নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হত অথবা চক্রের সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলত, যেখানে তাদের হুমকি দিয়ে অর্থ বা মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বাধ্য করা হত।
বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে, ভুক্তভোগীদের চাপ দিয়ে অনলাইন লেনদেন করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি বিশেষভাবে এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করত যারা সামাজিক কলঙ্ক বা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে অপরাধের কথা জানাতে দ্বিধা বোধ করতে পারে।
গ্রেফতার ও উদ্ধার
একটি অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর নয়ডা এলাকা থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে পুলিশ নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করেছে। কর্তৃপক্ষ ভুয়া নম্বর প্লেট এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য জিনিসপত্রও খুঁজে পেয়েছে।
কর্মকর্তারা একজন অভিযুক্তকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার বিরুদ্ধে একাধিক পূর্ববর্তী ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। জানা গেছে, এই চক্রটি বেশ কয়েক মাস ধরে সক্রিয় ছিল এবং এই সময়ে একাধিক ভুক্তভোগীকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।
প্রতারণার মাত্রা
তদন্তে জানা গেছে যে, চক্রটি একই পদ্ধতি ব্যবহার করে কয়েক ডজন ভুক্তভোগীকে লক্ষ্যবস্তু করে থাকতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ডেটিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়া প্রোফাইলের মাধ্যমে ৫০-৬০ জনেরও বেশি মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায়শই নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হত, আবার কাউকে কাউকে হুমকি বা আক্রমণের পর ব্ল্যাকমেলও করা হয়েছিল।
ডেটিং অ্যাপ-ভিত্তিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা
এই ঘটনাটি শহরজুড়ে ডেটিং অ্যাপ-সম্পর্কিত অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে তুলে ধরেছে। দিল্লি এবং অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে চক্রগুলি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ডাকাতি বা চাঁদাবাজির ফাঁদে ফেলে।
পুলিশ কর্মকর্তারা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় সতর্ক থাকতে এবং নির্জন স্থানে অপরিচিতদের সঙ্গে দেখা করা এড়াতে সতর্ক করেছেন।
পুলিশের পরামর্শ
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের নিম্নলিখিত পরামর্শ দিয়েছে:
প্রোফাইল যাচাই করুন
ডেটিং অ্যাপে সতর্কতা: নির্জন স্থানে অপরিচিতদের এড়িয়ে চলুন, তদন্ত চলছে
ডেটিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নির্জন স্থানে অপরিচিতদের সাথে দেখা করা এড়িয়ে চলুন। কারো সাথে দেখা করার আগে বন্ধু বা পরিবারকে জানান এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ অবিলম্বে রিপোর্ট করুন।
এদিকে, এই ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ চক্রের অন্যান্য সম্ভাব্য সদস্যদের এবং অতিরিক্ত ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
