নয়াদিল্লি, : এবার সন্দেশখালির প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। সোমবার একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে ‘হোয়াট ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুডে-এর মঞ্চে স্মৃতির কণ্ঠে উঠে আসে সন্দেশখালি প্রসঙ্গ। কনক্লেভে নারী শক্তি নিয়ে কথা বলছিলেন স্মৃতি। তখনই কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রীর স্মৃতির গলায় উঠে আসে সন্দেশখালির প্রসঙ্গ।
শেখ শাহজাহান ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যখন উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বললেন, ‘ওখানে যা হয়েছে, তা ভারতীয় তো বটেই, যে কোনও মানুষের চিন্তার বাইরে।’
ভোট পরবর্তী হিংসার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “বাংলায় এমন একটা ধারণা আছে, যে বিজেপি হলে তাঁকে সহজেই হত্যা করা যায়, বিজেপির মহিলা কর্মী হলে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সহজেই হেনস্থা করা যায়। বিজেপির যুব মোর্চার কর্মী হলে তাঁকে খোলা মাঠে দড়িতে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়, বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু আজ সন্দেশখালিতে যারা আক্রান্ত, তারা তো বিজেপি নয়। স্মৃতি ইরানি আরও বলেন, যাঁরা মমতাকে দিনের পর দিন সমর্থন করেছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মমতা জানতেনই না।”
স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘সন্দেশখালিতে যা হয়েছে তা চিন্তার বাইরে।’ একসময় বাংলায় বিজেপিকে আক্রান্ত হতে হত। বর্তমানে শাসক দলের সমর্থকরাই সুরক্ষিত নন, তাঁরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গও উঠে আসে তার সঙ্গে কথোপকথনে।
স্মৃতি ইরানি মূলত দেশের নারী শক্তি নিয়ে কথা বলেন কনক্লেভের মঞ্চে। কীভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের মহিলাদের আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করেছেন, কী ভাবে অর্থনীতির সমান অংশীদার হিসেবে গণ্য করেছে তা নিয়েই আলোচনা করেন মন্ত্রী। তখন তাঁর গলায় উঠে আসে সন্দেশখালির প্রসঙ্গ। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
শেখ শাহজাহান ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি। সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহান ও শাসক দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে তোপ দেগে দফায় দফায় রাস্তায় নামছেন মহিলারা। হাতে তুলে নিচ্ছেন লাঠি-ঝাঁটা।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, ‘ওখানে যা হয়েছে তা ভারতীয় হিসেবে তো বটেই, যে কোনও মানুষেরই চিন্তার বাইরে। বর্তমানে সন্দেশখালিতে যারা আক্রান্ত, তারা তো বিজেপি নয়। যাঁরা মমতাকে দিনের পর দিন সমর্থন করেছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মমতা জানতেনই না।’
সন্দেশখালি ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারকে নিশানা করছে বিরোধী দল। দফায় দফায় সেখানে যাচ্ছেন সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গোটা সাক্ষাৎকার ইংরাজিতে দিলেও সন্দেশখালির প্রসঙ্গ উল্লেখের সময় হিন্দিতে কথা বলা শুরু করেন তিনি। কারণ হিসেবে স্মৃতি ইরানি বলেেন, বিদেশি অতিথি থাকায় দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বেশি কিছু বলতে চান না। জেনে শুনেই হিন্দি ভাষায় কথা বলেছেন সন্দেশখালির প্রসঙ্গে বলে জানান।
