হিমাচল বিদ্রোহী বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা চ্যালেঞ্জ: সুপ্রিম কোর্টে শুনানি
সুপ্রিম কোর্ট হিমাচল প্রদেশের ছয় বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কের দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে তাদের অযোগ্য ঘোষণার চ্যালেঞ্জ করা একটি পিটিশনের শুনানি করবে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট হিমাচল প্রদেশের ছয় বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কের দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি করবে, যাদের রাজ্য বিধানসভার স্পিকার অযোগ্য ঘোষণা করেছিলেন। এই বিধায়করা শীর্ষ আদালতে স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যুক্তি দিয়েছেন যে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন করেছে। বিচারপতি সঞ্জীব খান্না, দীপঙ্কর দত্ত এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ ১২ মার্চ এই মামলার শুনানি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিমাচল প্রদেশ বিধানসভায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীর সময় ছয় বিধায়ক কথিতভাবে দলের হুইপ অমান্য করার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিধানসভার স্পিকার কুলদীপ সিং পাঠানিয়া ২৯ ফেব্রুয়ারি তাদের অযোগ্য ঘোষণা করেন, কংগ্রেস পার্টির দায়ের করা একটি পিটিশনের পর যেখানে তাদের বিরুদ্ধে বাজেট ভোটের সময় দলের নির্দেশ লঙ্ঘন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
রাজ্যসভা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্ক
২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রাজ্যসভা নির্বাচনের পর হিমাচল প্রদেশে রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়। নির্বাচনের সময় বেশ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপি প্রার্থী হর্ষ মহাজনের পক্ষে ক্রস-ভোট দেন। এর ফলে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অভিষেক সিংভি রাজ্যসভার আসন হারান। এই ক্রস-ভোটিং একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং কংগ্রেস পার্টির মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সূত্রপাত করে।
বিদ্রোহী বিধায়করা পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা সত্ত্বেও বিধানসভায় বাজেট প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। স্পিকারের মতে, এটি দলের হুইপের স্পষ্ট লঙ্ঘন ছিল, যা তাদের সভায় উপস্থিত থাকতে এবং বাজেটের পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করেছিল।
সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন
অযোগ্য ঘোষিত বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন রাজিন্দর রানা, সুধীর শর্মা, ইন্দর দত্ত লাখানপাল, দেবেন্দ্র কুমার ভুটু, রবি ঠাকুর এবং চৈতন্য শর্মা। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা তাদের পিটিশনে, এই বিধায়করা স্পিকারের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং আদালতকে অযোগ্য ঘোষণা বাতিল করার অনুরোধ করেছেন। তারা স্পিকার এবং রাজ্যের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন চৌহানকেও এই মামলার পক্ষভুক্ত করেছেন।
বিধায়করা যুক্তি দিয়েছেন যে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়েই তাদের অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাদের আবেদন অনুযায়ী, তাদের শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু পিটিশন বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের কপি সরবরাহ করা হয়নি।
প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের কথিত লঙ্ঘন
সিনিয়র অ্যাডভোকেট সত্য পাল
হিমাচল প্রদেশ: দলত্যাগ বিরোধী আইন ঘিরে বিতর্ক, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষা
বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রতিনিধিত্বকারী জৈন যুক্তি দেন যে বিধায়কদের নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের জবাব দাখিল করার জন্য কমপক্ষে সাত দিন সময় পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু স্পিকার পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই রায় ঘোষণা করেন।
এর বিপরীতে, স্পিকার তার বিস্তারিত আদেশে বলেন যে বিধায়কদের বিরুদ্ধে প্রমাণ স্পষ্ট ছিল এবং গণতান্ত্রিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে ও “আয়া রাম গয়া রাম” নামে পরিচিত দলবদল রোধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল।
দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিধান
ভারতের দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনো নির্বাচিত সদস্য যদি স্বেচ্ছায় কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ ত্যাগ করেন অথবা দলের হুইপের নির্দেশ অমান্য করে ভোট দেন বা ভোটদানে বিরত থাকেন, তাহলে তাকে বিধানসভা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে। রাজনৈতিক দলবদল রোধ করতে এবং নির্বাচিত সরকারগুলিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই আইনটি চালু করা হয়েছিল।
ছয় বিধায়কের অযোগ্য ঘোষণা হিমাচল প্রদেশ বিধানসভার রাজনৈতিক সমীকরণকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করেছে। এর ফলে, বিধানসভার কার্যকর সদস্য সংখ্যা ৬৮ থেকে কমে ৬২ হয়েছে, যেখানে কংগ্রেস বিধায়কের সংখ্যা ৪০ থেকে কমে ৩৪-এ দাঁড়িয়েছে।
মামলার রাজনৈতিক প্রভাব
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিধায়কদের পক্ষে রায় এলে তাদের সদস্যপদ পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং বিধানসভায় ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের কর্তৃত্ব এবং দলীয় শৃঙ্খলা প্রয়োগে স্পিকারের ক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।
