


নয়াদিল্লি, ২৫ আগস্ট (হি.স.): সমগ্র দেশে আড়াই লক্ষেরও বেশি মুদ্রণ ও প্যাকেজিং উদ্যোগের প্রতিনিধিত্বকারী অল ইন্ডিয়া প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজার্স ফেডারেশন (এআইএফপিপি) শনিবার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) হারের সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কার, যার লক্ষ্য বিদ্যমান বহু-স্তরীয় কাঠামোকে সরল করা এবং দুই-স্তরীয় ব্যবস্থা (৫% এবং ১৮%) বাস্তবায়ন করা। বৈঠকে ৯৬ জনেরও বেশি শিল্প প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা সকলেই সর্বসম্মতিক্রমে সরকারকে মুদ্রণ ও প্যাকেজিং শিল্পকে ৫ শতাংশ জিএসটি স্ল্যাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান, যাতে এই ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলকতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রফতানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
জিএসটি আইন বিশেষজ্ঞ এন.কে. থমন বৈঠকে বলেন, মুদ্রণ ও প্যাকেজিং ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি এই ক্ষেত্রকে খাতকে ১৮ শতাংশ স্ল্যাবে রাখা হয়, তাহলে এটি উদ্ভাবনে বাধা, ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা হ্রাসের দিকে পরিচালিত করতে পারে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট তথা মুদ্রণ উদ্যোক্তা উদয় ধোটে বলেছেন, উচ্চ করের হার ছোট ব্যবসার উপর বোঝা বৃদ্ধি করবে, যা প্রয়োজনীয় প্যাকেজিং পণ্যের দাম বৃদ্ধি করবে এবং এর সরাসরি প্রভাব গ্রাহকদের উপর পড়বে।
শিল্পের অর্থনৈতিক অবদান এবং সম্ভাবনা
ভারতের মুদ্রণ ও প্যাকেজিং শিল্প ২০২৫ সালের মধ্যে ১৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছনোর পথে রয়েছে।
শুধুমাত্র প্যাকেজিং ক্ষেত্রটি ২০২৫ সালে ১০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে, বার্ষিক ১০.৭৩% বৃদ্ধির হারে। এই ক্ষেত্রটি দেশে ২৫ লক্ষেরও বেশি মানুষকে সরাসরি কর্মসংস্থান করে এবং পরোক্ষভাবে কাগজ, কালি এবং সরবরাহের মতো সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলিকেও সহায়তা করে।
বর্তমান জিএসটি কাঠামো এবং প্রস্তাবিত প্রভাব বর্তমানে:
পিচবোর্ড, বাক্স এবং কাগজের মতো পণ্যের উপর ১২ শতাংশ জিএসটি (সম্প্রতি ১৮ শতাংশ থেকে কমানো হয়েছে) প্রযোজ্য।
স্টেশনারি (খাম, ডায়েরি, রেজিস্টার ইত্যাদি)-এর মতো পণ্য ১৮% স্ল্যাবের মধ্যে পড়ে। বইয়ের মতো প্রয়োজনীয় মুদ্রিত সামগ্রী ০% বা ৫% রেয়াতি হারে করযোগ্য। প্রস্তাবিত কাঠামোতে ১২% পণ্যের বেশিরভাগই ৫% স্ল্যাবে স্থানান্তরিত হতে পারে, তবে উদ্বেগের বিষয় হল যে, অনেক পরিষেবা ১৮% স্ল্যাবে স্থানান্তরিত হবে, যা উৎপাদন খরচ ৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।
আরও কৌশল-
এআইএফপিপি জানিয়েছে, তাঁরা জিএসটি কাউন্সিল এবং অর্থ মন্ত্রকের কাছে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেবে। ফেডারেশন বিশ্বাস করে, সরকারের কাছ থেকে একটি সহায়ক নীতি পেলে এই ক্ষেত্র কেবল স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে না বরং রফতানিতেও বড় অবদান রাখবে।
হিন্দুস্থান সমাচার বহুভাষী সংবাদ সংস্থার চেয়ারম্যান অরবিন্দ মার্ডিকরও এই আবেদনকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, পুরো শিল্পকে ৫% স্ল্যাবের মধ্যে আনার ফলে কেবল উৎপাদন খরচই কমবে না, বরং শেষ ব্যবহারকারী এবং রফতানিকারক উভয়েরই লাভবান হবে। তিনি জিএসটি কাউন্সিলের সামনে এই বিষয়টি উত্থাপন করার আশ্বাসও দিয়েছেন।
এআইএফপিপি-এর ভূমিকা :-
অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজার্স (এআইএফপিপি) দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুদ্রণ ও প্যাকেজিং ব্যবসার প্রতিনিধিত্ব করে। এই সংস্থাটি শিল্পের নীতিগত বাধা দূর করতে, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সুস্থায়ী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজ করে। ভার্চুয়াল বৈঠকটি পরিচালনা করেন মুদ্রণ শিল্পের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক কমল চোপড়া এবং তিনি এই ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত মৌলিক বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জগুলি তুলে ধরেন।
* * *
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌমিতা
