– সীমান্তগ্রাম থেকে বাহিনী ও সরঞ্জাম প্রত্যাহারের দাবি সহ বেড়া প্রকল্পে ‘অসহযোগিতা’ ঘোষণা ১৬টি কুকি-জো গ্রাম-প্রধানের
ইমফল, ২৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মণিপুরে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে নির্মীয়মাণ কাঁটাতারের বেড়া প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়ে এই প্রকল্পে ‘সম্পূর্ণ অসহযোগিতা’ ঘোষণা করেছে রাজ্যের ১৬টি কুকি-জো সীমান্ত-প্রধান।
ইন্দো-মায়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সংস্থাপন করতে ভারত সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে ষোলোটি কুকি-জো গ্রামের প্রধান ‘সম্পূর্ণ অসহযোগিতা’ ঘোষণা করেছেন। আজ সোমবার এক যৌথ বিবৃতি জারি করে গ্রাম-প্রধানরা বলেছেন, তাঁদের রাজনৈতিক দাবির যতদিন না সুরাহা হচ্ছে এবং মণিপুরে শান্তি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোনও জমির ক্ষতিপূরণ বা আলোচনা হবে না।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি অর্থের বিষয় নয়, এটা আমাদের অধিকার, আমাদের ভূমি এবং আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার। ভারত-মায়ানমার সীমান্তে আমাদের জনগণের সুরক্ষার জন্য লড়াই চলবে।’
‘ফ্রি মুভমেন্ট রেজিম’ (এফএমআর) বাতিল করা এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য প্ৰদত্ত চাপের সমালোচনা করে তাঁদের সপক্ষে যুক্তি প্ৰদৰ্শন করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপগুলি সীমান্তবর্তী জনগণের পরিচয়, গতিশীলতা এবং পূর্বপুরুষের ভূমিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিবৃতিতে গ্ৰাম-প্রধানরা উল্লেখ করেছেন, কুকি-জো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বারবার প্রেস রিলিজ, স্মারকপত্র এবং সমাবেশ ইত্যাদি সংগঠিত করা হয়েছে। কোনও ক্ষেত্রেই কান দেওয়া হয়নি। তাঁরা ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি)-এর উত্থাপিত অনুরূপ আপত্তিগুলিকেও উল্লেখ করে বলেছেন, বহুবার তাঁরা সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন, কিন্তু কোনও ঐকমত্যে আসতে পরেনি কেউ।
অসহযোগিতার অবস্থান নিয়ে গ্ৰাম-প্রধানরা ঘোষণা করেছেন, রাজনৈতিক সমাধান বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা জমির ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করবেন না, আলোচনায় অংশ নেবেন না বা চলমান বেড়া দেওয়ার কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দেবেন না। সংঘাত এড়াতে অবিলম্বে নির্মাণ কাজ বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম থেকে বাহিনী ও সরঞ্জাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস
