
নয়াদিল্লি, ১২ আগস্ট (হি.স.): সোমবার ডঃ আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের সহযোগিতায় মঞ্চস্থ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চণ্ডালিকা নৃত্যনাট্য। আর তা শুধু দিল্লিবাসীদের মন্ত্রমুগ্ধই করেনি, বরং সমাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে। উল্লেখ্য, সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাবহন করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চণ্ডালিকা।
এদিন কত্থক সহ বিভিন্ন নৃত্যধারার সঙ্গমে চণ্ডালিকা নাটক পরিবেশিত হয়। কত্থক ধরোহর নামে একটি সংস্থা দ্বারা প্রস্তুত হয় এটি। এদিন ডঃ আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে কত্থক ধরোহর আয়োজিত নৃত্যনাট্যটি পরিচালনা করেন সদানন্দ বিশ্বাস। তিনি কত্থক ধরোহরের প্রতিষ্ঠাতাও। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এই অনুষ্ঠানে ডঃ আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পরিচালক আকাশ পাটিল, কত্থক ধরোহরের সভাপতি প্রবীণ শর্মা সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় কত্থক ধরোহরের সভাপতি প্রবীণ শর্মা বলেন যে, এটি সংস্থার ১৪তম বার্ষিকী। এই উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তাঁরই নাটক চণ্ডালিকা-র মাধ্যমে স্মরণ করার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে। এটি দেশের গৌরবময় সাহিত্য এবং এর ইতিহাসকে তুলে ধরে। এই নৃত্যনাট্যটি কত্থক-এর সঙ্গে অন্যান্য নৃত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। উল্লেখ্য, চণ্ডালিকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত রচনা, যা নিম্নবর্ণের মেয়ে প্রকৃতি এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আনন্দের মধ্যে প্রেম এবং সামাজিক বৈষম্যের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে রচিত। সেখানে চণ্ডাল (অস্পৃশ্য) জাতির মেয়ে প্রকৃতি একটি কুয়ো থেকে জল নেওয়ার সময় আনন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। সন্ন্যাসী আনন্দ তার কাছে জল চান, এই ঘটনা প্রকৃতিকে হতবাক করে দেয়। কারণ উচ্চবর্ণের লোকেরা অস্পৃশ্যদের কাছ থেকে জল গ্রহণ করে না। আনন্দের এই আচরণ প্রকৃতিকে হতবাক করে দেয় এবং সে তাঁর প্রেমে পড়ে। প্রকৃতি তার মাকে দিয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করিয়ে আনন্দকে তাদের বাড়িতে আনতে বাধ্য করে। যা এই রচনায় সামাজিক এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বরও উদ্রেক করে।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ
