জেরুজালেম, ২৬ ডিসেম্বর (হি. স.) : এখনও হামাসের হাতে পণবন্দি শতাধিক ইজরায়েলী । এই পণবন্দিদের পরিজনদের ক্ষোভের মুখে পড়লেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । পার্লামেন্টে বক্তৃতা রাখার সময় সকলের প্রশ্ন বাণে বিদ্ধ হলেন নেতানিয়াহু। মাঝপথেই তাঁকে ভাষণ থামাতে হয়। যদিও ফের বক্তৃতা শুরু করে তিনি আশ্বাস দেন, “বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব।”
সোমবার পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ই ক্ষোভ উগড়ে দেন পণবন্দিদের পরিজনরা। প্রিয়জনদের নাম লেখা পোস্টার, ছবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করেন সকলে। নেতানিয়াহু সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সেনার অভিযান শেষ করতে আরও সময় দরকার। এর পরই সুর চড়ান সকলে। নেতানিয়াহুর কথার বিরোধিতা করে সকলে চিৎকার করে বলেন, “আর কোনও সময় নেই। যা করতে হবে এখনই করতে হবে। এখন মানে এখনই।”
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পরিজনরা বলেন, “আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি। আপনি সকলকে ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু এই ৮০ দিন অনেক সময়। এখন প্রতিটা দিন আমাদের নরকের মতো কাটছে।” সরকারের সমস্ত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা প্রত্যেকটা কোণা খুঁজে দেখছি। আমাদের প্রয়াসে কোনও ত্রুটি নেই। অপহৃত সকলকে আমরা ফিরিয়ে আনবই। তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের কাছে সমান মূল্যবান। যেদিন থেকে যুদ্ধ শুরু হয়েছে আমি পণবন্দিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলছি। দেখা করছি। সকলের কথা শুনছি। গাজায় সৈন্যরা প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সন্তানদের বলিদান আমরা বৃথা যেতে দেব না। যারা আমাদের মৃত্যু কামনা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা জয় নিশ্চিত করবই।”
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের বুকে বেনজির হামলা চালায় প্যালেস্টাইনের জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস। ওই আক্রমণে মৃত্যু হয় ১২০০ জন ইজরায়েলির। জেহাদিদের হাতে পণবন্দি হন ২৫০ জন। গত নভেম্বর মাসে সাময়িক যুদ্ধ বিরতিতে মুক্ত হয়েছিলেন ১০৫ জন। কিন্তু এখনও বন্দি রয়েছেন শতাধিক। গাজা ভূখণ্ডে এপর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন ইজরায়েলি সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / কাকলি
