ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.): ১৯৫০-এর ২০ মার্চ আমার জন্ম পূর্ব পাকিস্তানের লক্ষীপুর জেলায় চন্দ্রগঞ্জ থানার অধীন পাঁচপাড়া গ্রামে। পুজো হত পাড়ের গ্রাম দেওপাড়ায়। সেখানে ছিল কুমোরপল্লী। সার্বজনীন সেই পুজোয় একান্নবর্তী পরিবারের দুই প্রজন্মের শরিকরা যেতাম হইহই করে। ওখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হত। যোগ দিতাম তাতে। জীবনের প্রথম প্রায় দু’দশকের স্মৃতি সেই পুজোকে ঘিরে।
পরবর্তীকালে বৃহত্তর নোয়াখালির চৌমানিতে কলেজে পড়ানো শুরু করি। পুজো দেখার পরিসর বেড়ে গেল। সেখানে বন্দর সংলগ্ন হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায়, রামঠাকুরের সমাধিস্থলের অদূরে কিছু পুজো হত। সেগুলোর স্মৃতিও মনে ভাসে।
শিক্ষকতা ছেড়ে আরও পড়াশোনার জন্য ঢাকায় এলাম ১৯৭৩-এ। সেখানকার পুজোতেও জড়িয়ে পড়লাম। ১৯৭৮-এ তৈরি হল মহানগর সার্বজনীন পুজো কমিটি। ঢাকেশ্বরী মন্দির চত্বরেই আমাদের অফিস।
’৮৮ থেকে ওই সংগঠনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। রাষ্ট্রীয় সফরে আসা আপনার এবং ভারতীয় সাংবাদিকদলের অন্যদের সঙ্গে কথা হয়েছিল আমাদের। গোড়ায় ঢাকার ৪০টি থানা এলাকায় দুর্গাপুজো হত প্রায় ২০০টি। এবার হচ্ছে ২৫৮টি। ২০০৪-এ ছিলাম ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। ২০০৯-১০এ সভাপতি। এখন উপদেষ্টা।
পুজোর প্রশাসন যেন অষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরল আমাকে। ১৯৭৯-তে তৈরি হল বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বেশ কিছুকাল ধরে ওই সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দুর্গাপুজোর সময় দায়িত্ব ও কাজের চাপ বেড়ে যায়।
১৯৮২-তে তৈরি হল বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ। ২০১১-’১২-তে ছিলাম ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। এখন সহ সভাপতি। এবছর গোটা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৩০০ পুজোর দেখভালের দায়িত্বে ওই সংগঠন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি সময়বিশেষে চাপে ফেললেও বাংলাদেশের দুর্গাপুজোর সংখ্যা কমেনি। বরং বেড়েছে। ব্যস্ততাও প্রচুর। তার মাঝেই মন চলে যায় দেওপাড়ার কুমোরপল্লীতে। প্রতিমাশিল্পী-সহ কত মৃৎশিল্পী থাকতেন সেখানে। অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। তবু দুর্গাপুজো আছে দুর্গাপুজোতেই।
(ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক- বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সহ সভাপতি- বাংলাদেশ পুজো উদযাপন পরিষদ।
সাক্ষাৎকার— অশোক সেনগুপ্ত)।
***
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / অশোক সেনগুপ্ত
