কলকাতা, ১৯ আগস্ট (হি.স.): গোষ্ঠ পাল। এই বিখ্যাত বাঙালি ফুটবলারের বুধবার জন্মদিবস। রক্ষণে খেলার জন্য তিনি খ্যাতিলাভ করেছিলেন। দৈনিক ইংলিশম্যান তাকে চিনের প্রাচীর উপাধিতে ভূষিত করেছিল।
গোষ্ঠ পাল ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলা আরম্ভ করেছিলেন। ১৯০৭ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি কুমারটুলি ক্লাবে যোগ দেন এবং ১৯১৩ সাল পর্যন্ত সেখানে থাকার পর মোহনবাগানের খেলোয়াড় রাজেন সেনের সাহায্যে তিনি ১৯১২ সালে ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবে যোগ দেন। এর আগের বছর অর্থাৎ ১৯১১ সালে মোহনবাগান বিদেশীদের হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জয় করেছিল।
১৯১৩ সালে মোহনবাগানের হয়ে তিনি প্রথম খেলেন। ২৩ বছর তিনি মোহনবাগানের হয়ে খেলেন। ১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রথম যে দল গড়ে তাতে ছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার গোষ্ঠ পাল। ১৯২০ সালে ইস্টবেঙ্গল একটাই টুর্নামেন্ট হারকিউলিস কাপে খেলতে মোহনবাগান থেকে তাকে হায়ারে নিয়েছিল এবং চ্যাম্পিয়নও হয় লাল-হলুদ।১৯২১ থেকে টানা ৫ বছর তিনিই ছিলেন মোহনবাগানের অধিনায়ক। ১৯২৪ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় দলেরও অধিনায়কত্ব পান। তিনি খেলতেন রাইট ব্যাক পজিসনে। সেই সময় তিনি বুটপরা ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের খালি পায়ে খেলে প্রতিরোধ করতেন। তিনি হকি খেলাতেও দক্ষ ছিলেন, খেলতেন ক্রিকেট ও টেনিসও। ১৯৩৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৬২ সালে গোষ্ঠ পালকে ভারত সরকার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। তিনি ছিলেন প্রথম ফুটবল খেলোয়াড় যিনি পদ্মশ্রী উপাধি পেয়েছিলেন।
মোহনবাগান ক্লাব ২০০৪ সালে তাকে মরনোত্তর মোহনবাগান রত্ন উপাধিতে ভূষিত করে।
মোহনবাগান ক্লাবের ভিতরে তার নামে একটি সংগ্রহশালা গোষ্ঠ পাল সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া তার স্মরণে ডাকটিকিটও প্রকাশিত হয়েছে।
১৯৮৪ সালে কলকাতা ময়দানে স্থাপিত হয় তার ভাস্কর্য। খালি পায়ে ফুটবল খেলার উৎকর্ষতা বোঝানো হয়েছে এই ভাস্কর্যে।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি
