শান্তিরায় চৌধুরী
কলকাতা, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.): সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ-এটাই তার কৃতিত্ব বোঝানোর জন্য সবচেয়ে সহজ বাক্য। কথা হচ্ছে, গত শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ মহম্মদ আলীকে নিয়ে। সামর্থের সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকার সময় তিনিই ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যক্তি। লড়াইয়ে তার দক্ষতা আর অবিশ্বাস্য আত্মবিশ্বাস তাকে সত্যিকার অর্থেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ করেছে। মুষ্টিযুদ্ধের রিং–এ তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাজেহাল করেছেন। তিন তিনবার হেভিয়েট শিরোপা জয় করে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হিসেবে পরিণত হয়েছিলেন।১৯৬৪ সালে সনি লিষ্টনকে হারিয়ে তিনি নিজেই ঘোষণা করেছিলেন ‘আমিই বিশ্বের সম্রাট’। তবে তার সেদিনের সাম্রাজ্য শুধুমাত্র হেভিওয়েট রিংএর মধ্যেই সীমিত ছিল। আজ তিনি মুষ্টিযুদ্ধেই নয়,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের একজন। রিং এর ভেতরে এবং বাইরে তিনি যে কৃতিত্ব স্থাপন করেছেন,তা তার আগে বা তারপরেও দেখা যায়নি। হয়তো কোনদিনই দেখা যাবে না।
এমনকি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নিম্ন অবস্থায় থাকার সময়ও একজন মানুষ হিসেবে তার মর্যাদা তার মাহাত্ম্য ফুটে উঠত। একজন শোম্যান, একজন বিদ্রোহী, একজন মুসলমান, একজন মানবাধিকার কর্মী, একজন কবি-সব গুনেই তাকে অভিহিত করা যায়। জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তিনি একজন বিস্ময়কর ব্যক্তি বা মহামানব। বস্তুত তিনিই এক সময়ে পরিণত হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত মানুষে। এমনকি পৃথিবীর অনেক স্থান-যেখানে মুষ্টিযুদ্ধের কোনই জনপ্রিয়তা নেই,সেখানে তিনি মুকুটহীন সম্রাট। একজন মুষ্টিযোদ্ধার নামও যদি কেউ জানে, তবে তিনি হলেন মোহাম্মদ আলী।
মহম্মদ আলী নামে তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লুইসভিলে যখন জন্মগ্রহণ করেন তখন তার নাম ছিল ক্যাশয়াস ক্লে। ১২ বছর বয়সে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ১৯৬৪ সালের ২২ বছর বয়সে তিনি সনি লিষ্টনকে পরাজিত করে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেন। ফেব্রুয়া ২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ১৯ পর্যন্ত তিনি অবিতর্কিত হেভিওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সম্মান পান। এর কয়েকদিন পরে তিনি নেশন অফ ইসলামে যোগদান করে তার নাম পরিবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালে সুন্নি ইসলামে ধর্মান্তরিত হন। ২০১৬ সালে তিনি শ্বাসনালির সংক্রমণ অ্যারিজোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার।
