কলকাতা, ১২ জানুয়ারি (হি.স.): উত্তর কলকাতায় স্বামীজীর বাড়িতে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, চোরেদের বাড়িতে ইডি যাবে। পুরো দুর্নীতিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয়তা নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি।
বিকেলে সেখানে এসেই নাম না করে শুভেন্দুবাবুর দিকে কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, রাজনীতির কথা বলব না। যাঁরা এখানে এসে রাজনীতির কথা বলেন এটা তাঁদের শিক্ষা।
প্রসঙ্গত, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই উত্তর কলকাতার শিমলা স্ট্রিটে বিবেকানন্দের বাড়িতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিকদের ভিড়। একা শুভেন্দু অধিকারী নন, এ দিন শাসকদলের অনেক নেতাও স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এসেছেন। অভিষেক স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি উপলক্ষে উত্তর কলকাতায় স্বামীজীর বাড়িতে এলেও সেখানে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে গেলেন।
পূর্ব ঘোষিত সূচি মেনে উত্তর কলকাতার শিমলা স্ট্রিটে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল তিনটের কিছু পরে তিনি পৌঁছন সেখানে। প্রথমে বিবেকানন্দের মূর্তিতে মাল্যদান করেন, এরপর সরাসরি মহারাজদের সঙ্গে বাড়ির ভেতরে চলে যান।
এর আগে বিবেকানন্দের বাড়ি গিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানে ইডির তল্লাশি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ”এসব তো হওয়ারই ছিল। সিবিআই আগে থেকে কোনও তথ্য পেলে তবেই ইডিকে তল্লাশিতে পাঠায়। এঁদের সবার কাছেই কোনও না কোনও গোপন ব্যাপার আছে। তাই ইডি অভিযান চালিয়েছে। ব্যাগ গোছান, শীতের পোশাক সঙ্গে নিন।”
এ দিন স্বামী বিবেকানন্দের বাড়িতে মিনিট কুড়ি ছিলেন অভিষেক। স্বামীজীর বাড়ির বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরেও দেখেন তিনি। এরপর বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেও কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতে চাননি তিনি।
শুভেন্দুবাবুকে পরোক্ষে বিঁধে অভিষেকের মন্তব্য, ”এখানে রাজনৈতিক কথা বলব না। রাজনৈতিক কথা বলা এখানে অশোভনীয়, অসমীচীন, দৃষ্টিকটু। তবে এখানে সকলের আসার অধিকার আছে।” মনে করা হচ্ছে, ‘রাজনৈতিক কথা বলা অশোভনীয়’ বলার মাধ্যমে আসলে তাঁকেই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি রাজনীতির জায়গা নয়। কোনও রাজনীতির প্রশ্ন করতে হলে অন্য সময় করতে পারেন, কিন্তু আজ তিনি রাজনীতির কোনও কথা বলবেন না।
হিন্দুস্থান সমাচার/ অশোক
