কলকাতা, ২১ জুলাই (হি.স.) : হ্যারল্ড লারউড। মঙ্গলবার তার প্রয়াণ দিবস। ১৪ নভেম্বর নটিংহ্যামশায়ারের নানকারগেট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন তিনি। ১৯২৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। মূলত তিনি ডানহাতি ফাস্ট বোলার, কিন্তু ডানহাতে ব্যাটিংয়েও পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। অপ্রত্যাশিত গতিতে ও নিখুঁত বোলিং করতে পারদর্শিতা দেখিয়েছেন লারউড। অনেক ক্রিকেট বিশেষঙ্ঘের মতে, তিনি তার সময়কালের অন্যতম সেরা বোলার ছিলেন। বডিলাইন নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের বোলিংয়ের প্রবর্তন করে পরিচিত পেয়েছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেন।
১৯৩২-৩৩ মরসুমে ভবিষ্যত সিরিজের কথা মনে রেখে দল নির্বাচকমণ্ডলী জারদিনকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক মনোনীত করেন। ইংল্যান্ডের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের অধিকারী অধিনায়ক ডগলাস জারদিনের পরামর্শক্রমে ফাস্ট লেগ তত্ত্ব বা বডিলাইন বোলিং আক্রমণের দিকে মনোনিবেশ ঘটান। ফলশ্রুতিতে ১৯৩২-৩৩ মরসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রয়োজনীয় সফলতা লাভ করে। কিন্তু অস্ট্রেলীয়দের কাছে এ ধরনের কর্মকাণ্ডটি অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের পর্যায়ে চলে যায়। ফলে, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড এমসিসিকে তারবার্তা প্রেরণ করে। এর ফলে দুটি দেশের মধ্যে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক ভেঙ্গে পড়ে। লারউড তার বোলিংয়ের জন্য ক্ষমা চাইতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, তিনি অধিনায়ক জারদিনের নির্দেশনায় এ ধরনের বোলিং করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর কখনও ইংল্যান্ড দলে টেস্ট খেলেননি। এরপর অবশ্য তিনি আরও কয়েক মরসুম নিজ কাউন্টিতে সফলতার সাথে খেলেছেন।
১৯২৬ সালে জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটে ১৬.৯৫ গড়ে শতাধিক উইকেট লাভ করার প্রেক্ষিতে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। কেরিয়ারে ২২টি টেস্ট খেলে নিয়েছেন ৭৮টি উইকেট। ৫ উইকেট ৪ বার ও ১০ উইকেট ১ বার। ব্যাটিং এ করেছেন ৪৮৫ রান।
১৯৪৯ সালে এমসিসি’র সম্মানিত সদস্য হিসেবে মনোনীত হন তিনি। ট্রেন্ট ব্রিজের একটি স্ট্যান্ড তাঁর নামে নামাঙ্কিত করে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। বেশ দেরিতে হলেও ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদান রাখার প্রেক্ষিতে ১৯৯৩ সালে ৮৮ বছর বয়সে তাকে এমবিই পদবিতে ভূষিত করা হয়।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি
