কলকাতা, ২২ জুন (হি.স.) : টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে ১ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরি ৩ শূন্যর নজির
দেখা গেল এই নিয়ে পাঁচবার, যেটা শনিবার ঘটলো ইংল্যান্ডে প্রথমবার।
শুভমান গিল ও ঋষভ পন্থ যখন ব্যাট করছিলেন তখন মনে হয়েছিল ভারতের ইনিংস পাঁচশ ছাড়িয়ে অনেক দূর যাবে। কিন্তু অধিনায়ক গিলের বিদায়ের পর এল নাটকীয় ধস। রান হলো পৌনে পাঁচশরও কম।
তিন ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির পর ৪১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে হেডিংলি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভারত অলআউট হয়েছে ৪৭১ রানে।
প্রথমবার এমন কিছুর সাক্ষী হয়েছিল ১৯৩২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সিডনি টেস্ট। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন হার্বার্ট সাটক্লিফ, ওয়ালি হ্যামন্ড ও ইফতিখার আলি খান পাতৌদি। ইফতিখারের অভিষেক টেস্ট ছিল সেটি, যিনি পরে টেস্ট খেলেছিলেন ভারতের হয়েও।
ইংল্যান্ডের ওই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন মরিস লেল্যান্ড, লেস অ্যামিস ও হ্যারল্ড লারউড।
৭০ বছর পর আবার এমন নজির দেখা গিয়েছিল ২০০২ সালে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কলকাতা টেস্টে। ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন ওয়াভেল হাইন্ডস, শিবনারায়ণ চন্দরপল ও মারলন স্যামুয়েলস। মারভিন ডিলন, ড্যারেন পাওয়েল ও ক্যামেরন কাফি আউট হন শূন্য রানে।
এরপরই সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের সেই টেস্ট। প্রথম ইনিংসে প্রোটিয়াদের হয়ে সেঞ্চুরি করেন স্টিফেন কুক, হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক। শূন্য রানে ফেরেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, কাগিসো রাবাদা ও মর্নে মর্কেল।
২০২৪ সালে বুলাওয়ায়ো টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে তিন অঙ্কের স্বাদ পান রেহমাত শাহ, হাশমাতউল্লাহ শাহিদি ও আফসার জাজাই। রেহমাত ও শাহিদির ব্যাট থেকে আসে ডাবল সেঞ্চুরি। তাদের ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, নাভিদ জাদরান ও জাহির খান।
এরপর হেডিংলিতে ভারতের এই ইনিংস। এখানে সেঞ্চুরি করেন ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল (১০১), নতুন অধিনায়ক গিল (১৪৭) ও সহ-অধিনায়ক পান্ত (১৩৪)।
ম্যাচের প্রথম দিন অভিষেকে চার বলে শূন্য রানে ফেরেন সাই সুদর্শন। শনিবার কারুন নায়ার আট বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে চার বল খেলে শূন্য রানে বিদায় নেন অলিভার পোপের দুর্দান্ত ক্যাচে। পরে পাঁচ বলে রানের দেখা পাননি পেসার জাসপ্রিত বুমরাহ। ৪১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারায় ভারত।
—————
হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি
