কলকাতা, ১৬ অক্টোবর (হি.স.): গতকাল আফগানদের কাছে শক্তিশালী ইংল্যান্ড হেরেছে। এই অঘটন সবাইকে অবাক করেছে।এই অঘটন নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে অনেক ছোট দল। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এমনই ১০টি ম্যাচ।
আয়ারল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১৫
বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড সেবারই অঘটন দেখাতে শুরু করেছিল । তারা সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়েছিল। চার উইকেটে জিতেছিল উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের আয়ারল্যান্ড। এক সময় ৮৭ রানে চার উইকেট হারিয়েছিল ক্যারিবিয়ান দল। সেখান থেকে লেন্ডল সিমন্সের শতরানে ৩০৭ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। এই রান ২৫ বল বাকি থাকতে তুলে নেয় আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং (৯২) এবং এড জয়েস (৮৪) ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন।
বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, ১৯৯৯
বাংলাদেশ সেই সময় ক্রিকেট বিশ্বে পা রাখছে। সেই সময় তারা বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল। প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২২৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। সেই রান তাড়া করতে নেমে ১৬১ রানে শেষ হয়ে যায় পাকিস্তান।
জ়িম্বাবোয়ে বনাম ভারত, ১৯৯৯
সেবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৫২ রান তোলে জ়িম্বাবোয়ে। সেই রান তুলে জিততে ভারতের শেষ দু’ওভারে দরকার ছিল ৯ রান। কিন্তু ২৪৯ রানে অল আউট হয়ে যায় ভারত। হেনরি ওলঙ্গা ম্যাচ জিতিয়েছিলেন ৩ উইকেট নিয়ে।
জ়িম্বাবোয়ে বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৯৯৯
সেবার জ়িম্বাবোয়ে ভারত ছাড়াও হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। প্রথমে ব্যাট করে জ়িম্বাবোয়ে ২৩৩ রান করেছিল। জ়িম্বাবোয়ের নিল জনসন নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। ব্যাট হাতে ৭৬ রান করেছিলেন। বল হাতেও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। নতুন বলে তিনি এবং হিথ স্ট্রিক নাড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রোটিয়াবাহিনীকে। ১৮৫ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
কেনিয়া বনাম শ্রীলঙ্কা, ২০০৩
বড় দলের বিরুদ্ধে তারা একের পর এক অঘটন ঘটিয়ে সেই বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলেছিল কেনিয়া। সেই সময় শ্রীলঙ্কা ছিল যথেষ্ট শক্তিশালী দল। কেনিয়াকে মাত্র ২১০ রানে শেষ করে দিয়েও হেরে গিয়েছিল সনৎ জয়সূর্যের দল। কেনিয়ার কলিন ওবুয়া ১০ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। ১৫৭ রানে অল আউট হয়ে যান শ্রীলংকা।
আয়ারল্যান্ড বনাম পাকিস্তান, ২০০৭
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিল আয়ারল্যান্ড। পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩২ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টির জন্য সেই রানের লক্ষ্য কমে হয় ১২৭ রান। ৩ উইকেট হাতে নিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় আয়ারল্যান্ড। যদিও সেই ঘটনাকে ছাপিয়ে যায় পরের দিন পাকিস্তানের কোচ বব উলমারের মৃত্যু।
বাংলাদেশ বনাম ভারত, ২০০৭
সেবার শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং বারমুডার সঙ্গে এক গ্রুপে ছিল ভারত। প্রথম ম্যাচেই ভারত হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। ১৯১ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল রাহুল দ্রাবিড়ের ভারত। সেই সময় মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন। সেই হারের ধাক্কায় ভারত সে বারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
জ়িম্বাবোয়ে বনাম অস্ট্রেলিয়া, ১৯৮৩
সেবার প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল জ়িম্বাবোয়ে। প্রথম ম্যাচেই সামনে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। যে দলে রয়েছেন ডেনিস লিলি এবং জেফ থমসনের মতো ক্রিকেটার। অ্যালান বর্ডারও তখন দলে। সেই ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে জ়িম্বাবোয়ে এক সময় ৯৪ রানে ৫ উইকেট হারায়। সেখান থেকে অধিনায়ক ডানকান ফ্লেচারের ব্যাটে ভর করে ২৩৯ রান তোলে জ়িম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়া শেষ হয়ে যায় ২২৬ রানে।
কেনিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ১৯৯৬
নিপুণ বোলিংয়ের দাপটে সে বার ক্যারিবিয়ান দৈত্যদের হারিয়ে দেয় কেনিয়া। প্রথমে ব্যাট করে কেনিয়া মাত্র ১৬৬ রান করে। এর মধ্যে ৩৭ রান অতিরিক্ত পেয়েছিল তারা। সেটাই কাল হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জন্য। মাত্র ৯৩ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল ব্রায়ান লারাদের দল। বিশ্বকাপে সেটাই ক্যারিবিয়ানদের সব থেকে কম রানের ইনিংস।
ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ১৯৮৩
সেবার সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছিল ভারত বিশ্বকাপের ফাইনালে দুবারের বিজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে হারিয়ে কপিলেরা বিশ্বকাপ জিতবেন সেটা ছিল অবিশ্বাস্য। সেই অসাধ্য কাজটাই সাধন করেছিলেন কপিলেরা। ১৮৩ রান করেছিল ভারত। সেই রান তাড়া করে জয় ভিভ রিচার্ডসদের কাছে যে কঠিন হবে তা ভাবা যায়নি। ১৪০ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়।
হিন্দুস্থান সমাচার/ শান্তি
