আগরতলা, ১ ডিসেম্বর (হি.স.) : ত্রিপুরার জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথার রাজনৈতিক অবস্থান ও সাম্প্রতিক স্লোগানকে কটাক্ষ করে তীব্র সমালোচনা শানালো বিজেপি। সোমবার প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা দাবি করেন, “মানুষের কাছে সমর্থন হারিয়ে ফেলেছে বলেই তিপ্রা মথা এখন ‘ওয়ান নর্থ ইস্ট’-এর স্লোগানে ভরসা খুঁজছে।” তাঁর অভিযোগ, “এটি উত্তর-পূর্বের মানুষকে বোকা বানানোরই চেষ্টা মাত্র।”
রেবতী ত্রিপুরা বলেন, তিপ্রা মথার প্রধান দাবিই এখন বিলুপ্তপ্রায়। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবির কোনও বাস্তব পরিণতি পাওয়া যায়নি। উল্টে দলটি তখন ২২ জন বাঙালি প্রার্থীকে দাঁড় করিয়ে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছিল বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, “মথার পক্ষে আর নিজেদের ব্যানারে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মানুষের কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন দলীয় নেতৃত্ব।” রেবতী ত্রিপুরার দাবি, স্লোগান বদলে নতুন রাজনৈতিক জোট তৈরির চেষ্টা করলেও ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বের মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।
টিটিএএডিসি ও ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে জোট বা এককভাবে লড়াইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রেবতী ত্রিপুরা জানান, “নির্বাচনী তারিখ ঘোষণা না হলে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। সময় এলে দল সিদ্ধান্ত নেবে।”
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সহ-সভাপতি বিমল চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা।
বিমল চাকমা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “জনজাতি মুখ্যমন্ত্রী না হলে টিটিএএডিসির অধিকার রক্ষা পাবে না—এই ধরনের বক্তব্য জনজাতি সমাজকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা।” তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের নির্বাচনে তিপ্রা মথা সর্বত্র প্রার্থী দিলেও জিতেন্দ্র চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার ঘটনাই একটি বড় রাজনৈতিক চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয়।
বিজেপি নেতা বিমল চাকমা রাজ্যের জনজাতি ও বাংলা ভাষাভাষী উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে এই ‘চক্রান্তের ফাঁদে’ না পড়ার আহ্বান জানান।প্রদেশ বিজেপি-এর সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মাও এদিন দলের অবস্থান তুলে ধরে তিপ্রা মথা ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ
