দুর্গাপুর, ১৫ জানুয়ারি (হি. স.) : ফের রনডিহা জলাধারে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল যুবক। দীর্ঘ তল্লাশীর পর তলিয়ে যাওয়া যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হল। দামোদরে স্নান করার হিড়িক থাকলেও বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে জলাধারের নজরদারি নিয়ে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই জেটিবিহীন ঘাট থেকে অবাধে চলছে নৌকা পারাপার। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে গলসি-১ নং ব্লক প্রশাসন।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম শুভজিত ব্যানার্জী (১৮), আউশগ্রামের অমরারগড়ের বাসিন্দা। সোমবার বিকালে গ্রামের চার বন্ধুর সঙ্গে দামোদর নদের বুদবুদের রনডিহা জলাধারে স্নান করতে নেমেছিল। আচমকায় তলিয়ে যায় শুভজিত ব্যানার্জী। বন্ধুরা উদ্ধারের চেষ্টাও করে। কিন্তু জলের গভীরতা থাকায় তাদের চেষ্টা বৃথা যায়। বিষয়টি নজরে পড়তেই উপস্থিত জেলে ও মাঝিরা তল্লাশি শুরু করে। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বুদবুদ থানার পুলিশ। ঘন্টাখানেকর চেষ্টায় মাঝিদের তৎপরতায় তলিয়ে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে, তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জলাধারের নজরদারি ও জেটিবিহীনঘাটে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপারে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
প্রসঙ্গত, দামোদর নদের ওপর রনডিহা জলাধার। বৃটিশ আমলের তৈরী ওই জলাধারে জলসংরক্ষন ও পলি সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবী রয়েছে কৃষকদের। একই সঙ্গে জলাধারের নজরদারি নিয়েও বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। দাবী থাকলেও কার্যত সেসব লালফিতের ফাঁসে আটকে। আর যার মাশুল প্রায় জলাধারে কোন না কোন ভাবে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বার বার তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রিতিমতো শোরগোল পড়েছে। গত, ২০২০ সালে বন্ধুদের সঙ্গে স্নান করতে গিয়ে পা ফসকে তলিয়ে যায় এক যুবক। এছাড়াও গত ২০২১ সালে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে জন্মদিনে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে বছর ১৬ সায়ন কির্তনীয় নামে এক যুবক তলিয়ে যায়। পরদিন দামোদরের কসবা এলাকায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সিভিল ডিফেন্সের দল। এবং সেখান থেকে বুদবুদ থানার পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতি মাঝিদের ৪০ টি লাইফ জ্যাকেট দেয়। কিন্তু, সেসব আর ব্যাবহার হয় না বলে অভিযোগ। জেটিবীহিন দামোদরের ওইঘাটে ঝুঁকি নিয়ে চলে যাত্রী নিয়ে নৌকা পারাপার। এদিন মকরসংক্রান্তি পূণ্যস্নানের হিড়িক থাকলেও, সেখানে সিভিল ডিফেন্সের স্পিড বোড নিয়ে নজরদারিও ছিল না বলে অভিযোগ। আর তাতেই রনডিহা জলাধারে নজরদারি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বড় বড় হরপে সতর্কিকরন বোর্ড টাঙানো রয়েছে। অতীতে বহুবার তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কখনও পা ফসকে জলস্রোতে। আবার কখন মোবাইল পড়লে, সেটা তুলতে গিয়ে জলস্রোতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আবার কখনও মদ্যপ অবস্থায় জলাধারের জলে স্নান করতে নেমেও দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বেশীরভাগই যুবকদের মধ্যে এই প্রবনতা রয়েছে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও রয়েছে সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি নজরদারি যেমন নেই। তেমনই দুর্ঘটনা প্রবন হওয়া জায়গার ব্যারিকেড নেই। ফলে জলস্রোতে গিয়ে জলে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জায়গাটি মনরোম পরিবেশ হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় থাকে। বিকালের দিকে সুর্যাস্ত যাওয়া ও জলস্রোতের ছবি মোবাইল বন্দি করে রাখার প্রবনতা বেশী থাকে পর্যটকদের। অনেক সময় জলস্রোতের কাছাকাছি যেতে নিষেধ করলেও বহু ‘উৎসুক’ যুবকরা তোয়াক্কা করে না, স্নান করতে নামে জলে। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
যদিও এবিষয়ে গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চটোপাধ্যায় বলেন, বহুবার সতর্কিকরন বোর্ড লাগানো হয়েছে। লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছে মাঝিদের। কেন সেগুলো ব্যাবহার হয় না, খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব
