শান্তিনিকেতন, ৮ ডিসেম্বর (হি. স.) : পূর্ব পল্লীর মাঠ না দিলে পৌষমেলা হবে বিকল্প মাঠে। শতায়ু প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা আয়োজন করবে জেলাপ্রশাসন। শুক্রবার বৈঠক শেষে জেলা প্রশাসন জানালো যে বিশ্বভারতী এবং শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের কাছে ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা করার জন্য পূর্ব পল্লীর মেলার মাঠটি চাওয়া হবে। সাতই পৌষ মেলা হবে। বিশ্বভারতীর কাছ থেকে মাঠ না পাওয়া গেলে গত বছরের মতো ডাকবাংলো মাঠে হবে মেলা। বাঙালির আবেগ জড়িয়ে আছে এই পৌষ মেলাকে ঘিরে। জড়িত বোলপুরের সামগ্রিক অর্থনীতি। সবটাই জানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই তাঁর নির্দেশ পাওয়ার পরই শুক্রবার বোলপুর প্রশাসনিক বৈঠক বসে। বৈঠকের পর জেলা শাসক বিধান রায় জানান, সাতই পৌষ মেলা হবে। যেহেতু এই ঐতিহ্যবাহী মেলা পূর্ব পল্লীর মাঠে হওয়া বাঞ্চনীয়, তাই মাঠটি আমরা বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবং ট্রাস্টের কাছে চাইবো। যদি উনারা মাঠ দিতে নিতান্তই অপারগ হন, তাহলে আমরা ডাকবাংলো মাঠ এবং সংলগ্ন অন্যান্য স্টেডিয়াম জুড়ে মেলাটা করবো। এদিনের বৈঠকে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, জেলা শাসক বিধান রায়, জেলা সভাধিপতি, সিউড়ী বিধায়ক বিকাশ রায় চৌধুরী, লাভপুর বিধায়ক অভিজিৎ সিনহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অভিজিৎ সিনহা বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভালো মানুষ। উনি মেলার জন্য সদিচ্ছা দেখিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো অজ্ঞাত কারনে ট্রাস্টের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে মেলা বন্ধের ঘোষণা করা হলো। আমাদের সন্দেহ, বিতর্কিত উপাচার্য চলে যাওয়ার পর, তার ছায়াসঙ্গীদের কেউ কেউ বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে ভুল বুঝিয়েছেন। এই মেলার ক্ষেত্রে মাঠের রেন্ট ঠিক করা ছাড়া তো আর কোনো দায়িত্ব থাকে না। মেলা আয়োজনের অনুমতি দেয় জেলা পরিষদ, পনেরোশো মতো পুলিশ লাগে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, জল সরবরাহ করে পিএইচ, থাকে দমকল, বিদ্যুৎ দেয় সরকারের বিদ্যুৎ বন্টন নিগম, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা দেখে পৌরসভা। এর পরেও মেলা না করার তো কারণ নেই। বৈঠকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ মেলার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রাজ্যসরকারকে ডাকলো না। সেখানে আলোচনা হতে পারতো। জেলাশাসক এই বিষয়গুলি বিশ্বভারতীর কাছে জানতে চাইবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / হেমাভ
