উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর) সম্প্রতি বৈদ্যুতিকীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা আঞ্চলিক সংযোগ, ট্রেন চলাচলের গতি এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেছে। ২০১৭ সালে কাটিহার-বারাউনি সেকশনে প্রথম ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে রেলওয়ের আধুনিকীকরণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একাধিক মাইলস্টোন অর্জন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণরূপে বৈদ্যুতিকীকরণ করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব এবং দক্ষ রেল পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
BulletsIn
-
উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি: ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২,৮২৮ রুট কিলোমিটার (আরকেএম) বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে, এবং ২০২৫ সালের শেষের দিকে পুরো রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
-
প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন: ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল কাটিহার-বারাউনি সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন কাটিহার-অমৃতসর এক্সপ্রেস চলাচল শুরু করে।
-
গুরুত্বপূর্ণ রুট বৈদ্যুতিকীকরণ: কাটিহার-গুয়াহাটি, গুয়াহাটি-লামডিং, লামডিং-ফরকাটিং, আগরতলা-সাব্রুম এবং আগরতলা-জিরিবাম রুটের বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে, যা আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
-
বড় স্টেশন অন্তর্ভুক্ত: প্রধানমন্ত্রী নিউ জলপাইগুড়ি, নিউ কোচবিহার, নিউ বঙাইগাঁও, রঙিয়া এবং গুয়াহাটি স্টেশনসহ কাটিহার-লামডিং সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত রুট উদ্বোধন করেছেন।
-
পণ্যবাহী ট্রেনের উন্নতি: বর্তমানে ডব্লিউএজি ৯ সিরিজের ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ব্যবহৃত হচ্ছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লোকো ট্রিপ পরিদর্শন শেড নির্মাণ করা হয়েছে।
-
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ: রেলওয়ে নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ৫০ এমডব্লিউপি সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবা নিশ্চিত করবে।
-
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন: অসম জুড়ে একাধিক ট্র্যাকশন সাবস্টেশন চালু করা হয়েছে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহের উপর রাজ্যের গ্রিডের চাপ হ্রাস করবে।
-
ডিজেল থেকে ইলেকট্রিক রূপান্তর: শিলিগুড়ি, মালদা এবং নিউ গুয়াহাটিতে ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ শেড স্থাপন করা হয়েছে এবং ডিজেল থেকে ইলেকট্রিক লোকোমোটিভে রূপান্তরের কাজ চলছে।
-
ঐতিহাসিক অর্জন: ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি নিউ জলপাইগুড়ি-কলকাতা রুটে প্রথম ইলেকট্রিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং ২০২১ সালের ২২ অক্টোবর ব্রহ্মপুত্র মেল প্রথমবারের মতো নিউ দিল্লি থেকে গুয়াহাটিতে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনে পৌঁছায়।
-
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিকীকরণের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আঞ্চলিক উন্নয়ন, পর্যটন, এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও বাড়াবে, যা ভারতীয় রেলওয়ের সবুজ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।
