গুয়াহাটি, ২১ অক্টোবর : দেশের যুবসমাজ ও শ্রমজীবীদের মধ্যে গতি, স্বাচ্ছন্দ্য ও সময় বাঁচানোর প্যাশন সবসময়ই প্রত্যক্ষ করা যায়। সকলের মনের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ভারতীয় রেলওয়ের বন্দেভারত ট্রেন সমস্ত বয়সের ভ্রমণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের ভ্রমণের বিকল্প হয়ে উঠেছে।
বন্দেভারত প্ৰসঙ্গে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সব্যসাচী দে বলেন, অসমে অত্যাধুনিক বন্দেভারত এক্সপ্রেস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল সহ নির্দিষ্টভাবে অসমের সাধরাণ মানুষ ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় দ্রুতবেগ ও স্বাচ্ছন্দ্যের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। বন্দেভারত ট্রেনটি উদ্বোধনের সময় যাত্রা শুরু করার স্টেশনের পাশাপাশি পথের অন্যান্য স্টেশন থেকেও যাত্রীদের ব্যতিক্রমী পরিপূর্ণতার হার পঞ্জিয়ন করেছে।
তিনি বলেন, ২২২২৭/২২২২৮ নম্বর নিউ জলপাইগুড়ি-গুয়াহাটি-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দেভারত এক্সপ্রেস উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গুয়াহাটিকে নিউ জলপাইগুড়ির সাথে সংযুক্ত করেছে। এই ট্রেন উভয়পথে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা হ্রাস করেছে। নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, কোকরাঝাড় ও নিউ বঙাইগাঁওয়ের আশপাশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দ্বারাও ট্রেনটিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ট্রেনটির পরিষেবা চালু হওয়ার পর থেকে ভালো পৃষ্ঠপোষকতা পঞ্জিয়ন করে চলেছে।
গুয়াহাটি-নিউ জলপাইগুড়ি রুটের মানুষ স্থলপথ দিয়ে ভ্রমণের তুলনায় বন্দেভারতকেই বেশি পছন্দ করেন। কারণ স্থলপথে ভ্রমণের সময় প্রায় ১০ ঘণ্টা। কিন্তু বন্দেভারত ট্রেনে গুয়াহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ভ্রমণের সময় মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা।
যাত্রাপথে যাত্রীরা বন্দেভারত ট্রেনে পরিবেশিত সুস্বাদু খাদ্য উপভোগ করতে পারেন। নিউ জলপাইগুড়ি-গুয়াহাটি বন্দেভারত ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সকাল ০৬.১০ মিনিটে রওয়ানা দেয়। যাত্রীদের মধ্যে বিশেষত গৃহিণীদের বাড়িতে খাদ্য তৈরির বিষয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। কারণ ভ্রমণ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ট্রেনে ব্রেকফাস্ট পরিবেশন করা হয়।
সব্যসাচী দে বলেন, বন্দেভারত হলো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষিত ট্রেন। এটি ভারতীদের জন্য একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ট্রেন, যাঁরা একটি ভালো ট্রেনের অভাব অনুভব করেছিলেন। যুব সমাজের মধ্যে বন্দেভারতের উন্মাদনা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় সোশাল মিডিয়ায়। ভারতীয় রেলওয়ের এই নতুন ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলে অথবা ভিডিও তৈরি করে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে শেয়ার করে যুবপ্রজন্ম বন্দেভারতের প্রতি নিজেদের উন্মাদনা প্রকাশ করে চলেছেন।
গুয়াহাটি-নিউ জলপাইগুড়ি বন্দেভারত ট্রেনে যাত্রাকারী সমস্ত যাত্রীদের মধ্যে ২৫-৩৪ বছর বয়সের তরুণ (পুরুষ, মহিলা) যাত্রীর সংখ্যা গড় ২৭.২১ শতাংশ। একইভাবে ৩৫-৪৯ বছর বয়সের গড়ে ৩৩.০৩ শতাংশ যাত্রী পরিবহণের অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে বন্দেভারতকেই বেশি পছন্দ করেন। বন্দেভারত রুটে যাত্রাকারী সমস্ত বয়সের যাত্রী সংখ্যার তুলনায় এই বয়সের যাত্রীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। প্রবণী নাগরিকরাও (৬০ বয়স) স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুতবেগের জন্য বন্দেভারত এক্সপ্রেসের প্রতি নিজেদের পছন্দ প্রকাশ করেছেন। সমস্ত বয়সের যাত্রীর সংখ্যার মধ্যে এই বয়সের যাত্রীর গড় ৭.৯১ শতাংশ।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিকের দাবি, নতুন যুগের ট্রেনটি দুটি রাজ্যের এবং প্রতিবেশী বিভিন্ন শহরের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। যে সমস্ত যাত্রী এই রুটে ঘনঘন যাত্রা করেন তাঁদের জন্য ট্রেনটি একটি আশীর্বাদ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ট্রেনটি যাত্রীদের জন্য একটি সুবিধাজনক ও সময় সাশ্রয়ী বিকল্প।
