গণ্ডাছড়া (ত্রিপুরা), ১৬ জানুয়ারি (হি.স.) : ব্লকের কোষাধ্যক্ষ এবং ইউকো ব্যাংকের কর্মকর্তাকে কমিশন না দেওয়ায় টাকা পাচ্ছে না সীমান্ত গ্রাম কর্মসূচির শিল্পী এবং অন্যান্য পাওনাদাররা। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিল্পী সহ পাওনাদাররা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে গোটা দেশের সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনী প্রচারণার জন্য সীমান্তগ্রাম ক্রান্তি বীর কা নাম শীর্ষক কর্মসূচির সূচনা হয়। গোটা দেশের পাশাপাশি ত্রিপুরায়ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ওই কর্মসূচি হাতে নেয়। ধলাই জেলার গণ্ডাছড়া মহকুমার দুটি ব্লকের তিনটি সীমান্তঘেঁষা গ্রামে সাতদিন করে ক্যাম্প করা হয়। ডুম্বুরনগর ব্লকের সীমান্ত লাগোয়া ভগীরথপাড়া স্কুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাতদিনের ক্যাম্প। ওই সাতদিনের ক্যাম্পে সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন পরিবারের ছেলেমেয়েদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় কর্মশালা। ওই কর্মশালায় বিভিন্ন বিভাগে যেমন আর্ট বা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি আঁকা, নৃত্য, নাট্যশিল্পীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ককবরক নাচগান ইত্যাদি শেখানো হয়।
প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য গাইডলাইন মেনে নিয়োগ করা হয় প্রশিক্ষকদের। এভাবেই গণ্ডাছড়া মহকুমার রইস্যাবাড়ি ব্লকের দুটি গ্রামীণ বিদ্যালয়ে সাতদিন করে ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। গোটা অনুষ্ঠান শেষ হয় ২০২২ সালের ৩ আগস্ট। ওই অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষক, ডেকুরেটর, সাউন্ড সিস্টেম, হোটেল এবং টিফিন দোকানের মালিকরা ছয়মাস পরও নিজেদের পাওনা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ডুম্বুরনগর ব্লকের টাকা মিটিয়ে দিলেও বাঁধ সাধে মহকুমার রইস্যাবাড়ি ব্লক। বারবার পাওনাদাররা রইস্যাবাড়ি ব্লকের বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেও পাওনাদারদের তিনি কোনও সাহায্য করেননি বলে অভিযোগ। পাওনাদারদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় রইস্যবাড়ি ব্লকের কোষাধ্যক্ষ সুব্রত দাসের সঙ্গে। অভিযোগ, আজ-কাল করতে করতে একমাস কাটিয়ে কোষাধ্যক্ষ সুব্রত দাস নিজের খাইমেটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে জানান, প্রত্যেক বেনিফিশিয়ারিকে একহাজার টাকা করে দিলে বিল মিটিয়ে দেওয়া হবে নতুবা নয়।
এ সব ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর তথা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকে ফ্যাক্স যোগে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহকুমার শিল্পীরা। শিল্পীদের সঙ্গে এহেন আচরনের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ / সমীপ
