ক্রান্তি ও বানারহাট, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : পরপর দু’দিন চিতাবাঘের হামলা জলপাইগুড়ির ক্রান্তি ব্লকের সুবর্ণপুর চা বাগানে। বৃহস্পতিবার বাগানের ৪ নম্বর সেকশনে কাজ করার সময় প্রদীপ রায় (৪৫) নামে এক চা শ্রমিকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি চিতাবাঘ। তাঁর চিৎকারে আশপাশের শ্রমিকরা ছুটে এলেও বুনোটি ততক্ষণে তাঁর গলা খুবলে নিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে, বানারহাটের দেবপাড়া চা বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনে দুটি চিতাবাঘকে ছোটাছুটি করতে দেখে আতঙ্কে পালিয়ে আসেন শ্রমিকরা। শুক্রবার আর ওই সেকশনে কাজ হয়নি। পরে বন দফতর পটকা ফাটালেও বুনো দুটির আর হদিস পাওয়া যায়নি।
চিতাবাঘ ধরতে সুবর্ণপুরে খাঁচা পাতা হয়েছে। প্রয়োজনে দেবপাড়াতেও খাঁচা পাতা হবে বলে জানিয়েছেন বনকর্তারা। ডুয়ার্সের চা বাগান ও লাগোয়া গ্রামগুলিতে একের পর এক চিতাবাঘের হামলায় যেমন দিশেহারা বন দফতর তেমনই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতা শিবিরও করা হয় । তবে বনকর্মীরা চলে যেতেই এলাকায় ফের চিতাবাঘের হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুর দুটো নাগাদ বাগানের ৪ নম্বর সেকশনে অন্যদের সঙ্গে পাতা তুলছিলেন চা শ্রমিক প্রদীপ রায় (৪৫)। সেই সময় হঠাৎই একটি চিতাবাঘ তার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁর গলায় খুবলে দেয় বুনোটি। আশপাশের শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে মালবাজার সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। বর্তমানে সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই শ্রমিক।
এদিন বানারহাট ব্লকের দেবপাড়া চা বাগানে ২৬ নম্বর সেকশনে দুটি চিতাবাঘকে ছোটাছুটি করতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। বাগান কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি ওই সেকশনে কাজ বন্ধ করে দেন। পাশের সেকশনগুলিতেও সচেতন হয়ে কাজ করতে বলেন। খবর পেয়ে বিন্নাগুড়ি বন্যপ্রাণ শাখার কর্মীরা এসে আশপাশে বাজি-পটকা ফাটিয়ে শ্রমিকদের আতঙ্ক কাটানোর চেষ্টা করেন। রিয়াবাড়ি, পলাশবাড়ি, কাঁঠালগুড়ি ও কারবালা চা বাগান এলাকাতেও চিতাবাঘ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার করছে বানারহাট রেঞ্জ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি
