
দুর্গাপুর, ২০ জানুয়ারি (হি. স.) দশদিন আগে শেষ হয়েছে মেলা। তবুও ফেরেনি খেলার মাঠের পুর্বের অবস্থা। প্লাস্টিকের আবর্জনায় মুখ ঢেকেছে গোটা মাঠ। রয়ে গেছে বেশ কিছু তাবু। তার মধ্যেই যেন সংসার পেতে বসেছে মেলার দোকানদাররা। গর্তে ভর্তি মাঠ। এমনই হতশ্রী দশায় দুর্গাপুরের কল্পতরু মাঠ। বিষন্ন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
প্রসঙ্গত, পয়লা জানুয়ারি থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত চলে দুর্গাপুরের কল্পতরু মেলা। দুর্গাপুর প্রজেক্টের (ডিপিএলের) খেলার মাঠে চলে ওই মেলা। সম্প্রতি মেলার মাঠের চারপাশে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে মেলার মাঠটি বাউন্ডারি দেয় দুর্গাপুর নগর নিগম। ষ্টেশনের কাছাকাছি হওয়ায় প্রতিবছর ওই মাঠে মহকুমার ফুটবল, ক্রিকেট লিগের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও নানান ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হয়। গত ১০ জানুয়ারি মেলা শেষ হয়ে গেলেও আজও মাঠ ফাঁকা হয়নি। প্লাস্টিক সহ আবর্জনার স্তুপে মুখ ঢেকেছে গোটা খেলার মাঠ। রীতিমতো সংসার পেতে বসে রয়েছে মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা। রয়েছে বাঁশের কাঠামো। গর্তে ভর্তি। পড়ে রয়েছে অজস্র পেরেক। এমনই হতশ্রী চেহারায় ক্ষুব্ধ ক্রীড়াপ্রেমীরা। অভিযোগ, অপরিস্কারের জন্য খেলার মাঠে আর খেলাধুলা করা সমস্যা হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে মেলা শেষ হয়ে গেলেও কেন ফাঁকা করা গেল না?
ক্রীড়াপ্রেমী মুকুট নাহা বলেন, মাঠে পেরেক পড়ে থাকলে খেলওয়াড়দের পায়ে লাগে। ম্যাগনেট দিয়ে পেরেক পরিস্কার করে দেয়। আশা রাখছি, এবারও করে দেবে।
দুর্গাপুর মহকুমা ক্রীড়াসংস্থার সাধারণ সম্পাদক তাপস সরকার বলেন, স্টেশনের কাছে হওয়ায় খেলওয়াড়দের যাতায়াতের সুবিধা হয়। তাই অনেকের পছন্দের মাঠ। মেলা শেষ হওয়ার দিন দশেকের মধ্যেই পরিস্কার করে দেয়। আমরা নগরনিগমকে বলেছি। নগর নিগম বলছেন শীঘ্রই পরিস্কার করবে।
সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, সেখানে রাজ্যের শাসকদল দুটো সিস্টেমে চলছে। মেলা চলাকালীন একটা তোলাবাজির সিস্টেম। ভাঙা মেলার আর একটা। ভাঙা মেলায় যে সব দোকানদাররা থাকে তাদের কাছ থেকে আলাদা করে একটা তোলা পায় তৃণমূল। সেই তোলা আদায় না হওয়ায় এখনও মাঠ পরিস্কার হয় নি।
কংগ্রেস নেতা দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, সরকারিভাবে মেলা শেষ। এখন ভাঙা মেলা চলছে তৃণমূলের তোলা আদায়ের জন্য। মেলার মাঠ পরিস্কার না হওয়ায় অনুর্ধ ১৭ লিগের টুর্নামেন্ট শুরু করা যায়নি। আমাদের দাবি, খেলার মাঠে খেলা করুক। মেলা যেন না হয়। খেলার মাঠে মেলা করে তোলাবাজির রাজনীতি বন্ধ হোক। তৃণমূলের এই তোলাবাজির রাজনীতি ধিক্কার জানাই।
দুর্গাপুর সাংস্কৃতিক মেলা কমিটির সদস্য কল্লোল ব্যানার্জীর দাবি, মেলার অর্জিত আয় দিয়ে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ হয়। কল্পতরু মেলার পরই মকর সংক্রান্তি গেছে। কিছু দোকানদার ব্যাবসার জন্য থেকে গেছে। খুব শীঘ্রই তারা উঠে যাবে। মেলার মাঠ পরিস্কার করা হবে।
দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসক মন্ডলির সদস্য রাখি তেওয়ারী বলেন, মেলা শেষের পরই মকর সংক্রান্তি গেছে। কিছু দোকানদার থাকায়, সাফাই হয়নি। তবে দু-একদিনের মধ্যে গোটা মাঠ পরিস্কার করে আগের অবস্থায় ফেরানো হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার /জয়দেব
